ইবলিশের কবলে বিশ্ব
একটি বিভৎস কালো হাত সবুজ পৃথিবীর মানচিত্রকে এমন ভাবে ধরে রেখেছে, যেন তার থেকে পৃথিবীর মুক্তি নেই। পৃথিবী বড় অসহায়। এই কালো হাতের চাপে কখন মানচিত্রের অভ্যন্তরনে সীমানা বদলে যায়- নুতন নামে, নুতন পরিচয়ে জন্ম নেয় কোন ভূ-খন্ড, জাতী, সম্প্রদায়। কম্পাসের মাপ ভূল হওয়ার কথা নয় তাই ভাগ বাটোয়ারা সবই হয় সুক্ষè যেন কোন দক্ষ শিল্পীর আঁকা হৃদয় বিদারক ছবি- শিল্পীর কাছে কোন কিছুর অভাব নেই রংতুলি সবই আছে তিনি শুধু আঁকেন কোথায় লাল রং কোথাও সবুজ, কালো দর্শকরা চাইলে তিনি কখনও কখনও সাদা, রংয়েরও ছবিও আঁকেন। তবে এই দক্ষ শিল্পীর বৈশিষ্ট হলো তিনি যা কিছু করেন সবই মানচিত্রের মধ্যে। পরিবর্তন করেন যোজন-বিয়োজন আর সংশোধনের মাধ্যমে। একটি বৃহৎ মানচিত্রের মধ্যে ছোট ছোট অনেক মানচিত্র তিনি আঁকতে পারেন আর প্রতিটি মানচিত্রের মধ্যে রাখেন এক নিবিঢ় সর্ম্পক। একটি মানচিত্র কখনও কখনও ভেঙ্গে কয়েকটি ক্ষুদ্র মানচিত্রে পরিণত হয়। সবই শিল্পীর কাজ সৃজনশীল শিল্পীর তৃপ্তি নেই তিনি শুধু নুতন কিছু সৃষ্টি করতে চান। যেমন নুতন বিশ্ব ব্যবস্থা।
শিল্পী কখনও হয়ে যান একজন মহীয়সী নারী-এ আসনে যখন তিনি অধিষ্ঠিত হন তখনও তার সৃস্টিতে পরিলক্ষিত নুতন তিনি যেন ধরিত্রী- সবাই তার নুতন হৃদয়ে, সে বড় অনুগত সৈনিক তাই গর্ব করে বলে “ দেখনা আমি নারী-নর সেবার জন্য আমার জন্য সেবা না পেলে দেবতা নর অখুশী হয়, ধর্ষন করে, হত্যা করে এসিডে শরীর ঝলসিয়ে দেয়, বিবস্ত্র করে ছবি তোলে আর তুলবেই না কেন সে যৌনাংগ দেখে সে পুলকিত হয় এক দিন সেও এই যৌনাংগের পথেই এসেছিল এই পৃথিবীতে তাই তার এত শক্তি!
শক্তির বলেই সে আমাকে জ্যান্ত কবর দেয় শ্বাসরুদ্ধ করে। আমার মাথায় সিঁদুর, মুখে কলেমা, গলায় ক্রস, গায়ে হলুদ গেরুয়া আমি কে নরের সেবা না করে পারি? কবি সাম্যবাদী/আনুক/কবি নজরুল/নারী কি এমনিতেই বলেছেন হে নারী তুমি মোরে করেছো মহান পৃথিবীতে যা কিছু গড়েছে নর নারী ছিল তার সাথে কবি তাই দারিদ্র্যের উপর অভিমান করে একবার ভূল করে যদি বলেও থাকেন হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছো মহান। কবি তখন ভাবনার জগতে ছিলেন মাঝামাঝি পর্যন্ত পুতে পাথর মারা আর শিরচ্ছেদ এর বিধান শুধু এই নারীর জন্য হলে কবি নিশ্চয়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করে বলতেন–
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নহে
নহে কিছু মহীয়ান
দোজখের শাস্তি নির্ধারিত জেনেও সে দেবতা নররা আমাকে গন ধর্ষন করে
তারা তো আর স্বর্গ নরক মানে না তা যদি হতো তাইলে কবির এ কবিতা নিছক কাল্পনিক
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক,
কে বলে তাহা বহুদুর
মানুষের মাঝেই স্বর্গ নরক
মানুষেই সুরাসুর।
কবি ভাবুক মানুষ তো আমাদের মত নারীনয়” যৌন কর্মে উভয়ের সম্মতির প্রয়োজন করি নর বিধায় নারীর এই গণতান্ত্রিক অধিকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন নাই তিনি বাজিয়েছেন রনতুর্য গেয়েছেন শিকল ছেঁড়ার গান পরকালের শান্তির ভয়ে মসজিদের কাছে কবর সেখানে নারীকে সাথে নিতে চান নাই। কবিতো আমাকে নাটোরের বনলতা সেনের মত দেখেন নাই। মাদার তেরেসাই ভাল তার কবির প্রয়োজন ছিল না যেমন ছিল না বিবি মরিয়মের
সিস্টারদের কথা না হয় বাদই দিলাম ফাদাররাও নারী স্পর্শ পাপের কাজ মনে করেন ধর্ম যাজক আর নবী রাসূলদের মধ্যেও নারী নেই পুত পবিত্র এসব আত্নাই নর তাই তাদের সেবা করা নারী হিসাবে আমাদের দায়িত্ব আমাদের জীবন মরণ মৌলিক চাহিদা গণতান্ত্রিক অধিকার সবই নর দেবতার করুন্যয় উপর আমাদের দেহ মন জীবন যৌবন সবই নর সম্রাটের খেদমতে। আল্লাহর বান্দার খেদমত হোক না সে মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান বা ইহুদি।
শিল্পীর হাজারো কল্পনা তিনি শুধু গেঠতম বুদ্ধের মত ধ্যান মগ্ন থাকেন না যিশুর মত রক্ত দিয়ে মানুষের পাপমোচন করেন নাই হালাকু খানের মত রক্তের সমুদ্র ও তিনি দেখেন না তিনি যখন একটা জ্যান্ত রক্ত চোষার ছবি আঁকেন তখন রক্ত চোষার সাথে প্রেমালাপ হয় রক্ত চোষা গর্ব করে তার আত্ন পরিচয় দেয় এভাবে।
আমি রক্ত চোষা যেখানে রক্তের গন্ধ পাই সেখানেই আমার বিচরন। আমি রড় তৃষ্ণার্ত রক্ত দিয়ে পুরন করি আমার তৃষ্ণা। কোন পশুর রক্তে আমার বাসনা তৃপ্ত হয় না আমি পান করি জ্যান্ত মানুষের রক্ত। রক্ত পান করা আমার নেশা, আমার পেশা, কে কি বলল তাতে আমার কিছু আসে যায় না। রক্ত আমার চাই, না হলে আমি মারা যাব শেবিতের টক টক লাল রক্ত। আমি গর্ভে থেকে খেয়েছি মায়ের অপবিত্র রক্ত মুখে দিয়ে নয় কারন আমার মুখ বড় পবিত্র এ মুখ দিয়ে সৃষ্টিকর্তার পবিত্র বাণী উচ্চারিত হয়। আমি সবুজ ধরায় যখন জন্ম নিলাম তখন আমাকে আনা হলো অন্য জগতে চোখ মেলে চেয়ে দেখলাম আমার জন্ম দাতা পিতা রক্তের নেশায় মত্ত জন্মগত ভাবেই আমার রক্তের নেশা। তারপর কর্ম জীবনে পেশা হিসেবে বেছে নিলাম রক্ত পান করা। আমার পরিবার আমার সমাজ, আমার দেশ, আমার জাতী, আমার বিশ্ব আমাকে রক্ত পান করাই শিখিয়েছে আমাকে ওরা রক্ত দিয়েই লালন পালন করেছে মা বাবার রক্তে আমার জন্ম আমি রক্তের পৃথিবীতেই বাস করি। রক্ত পেতে আমার অসুবিধে হয় না। আমি কখনও শিকার খুজে বেড়াই না শিকার আমার চারিদিকে ঘুর ঘুর করে বেড়ায় তাই রক্ত পেতে আমার অসুবিধা হয় না। বংশগতিতেই আমার রয়েছে রক্তের নেশা রক্ত পান করার অভ্যাস তাই আমার শুধু রক্ত চাই শুধু লাল রক্ত? পরিবেশ ও আমাকে যে শিক্ষাই দিয়েছে হে মহান শিল্পী তুমি যদি মাত্য আমার ছবি আঁক তাইলে যেন আমার চেহারা তোমার রংতুলিতে যে ভাবেই ফুটে উঠে।
এছবিটিও যদি আঁকতে না পার আর নিখুত না হয় তবে-
কবির অনেক কিছু ভাবনার এই মুহূর্তে জন্ম, মৃত্যু, যুদ্ধ, খুন, ধর্ষন, বাসর ঘর- শ্লোগান, ফাঁসী আরও কত কি।
শিল্পী একবার আঁকে না পাশা পাশি যিশু, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কণ্য গৌতম ব্যদ ভগবান ইশ্বর, গড, আল্লাহ খোদা সর্ব কিছু আঁকে না একটা নিত্তির ছবি আঁকা উলঙ্গ মানুষ, ধর্ষিত নারী খদ্দরের অপেক্ষাকৃত পতিতা আঁকেন শিল্পী øেহের
শিল্পী তুলি তোমার যদি এ ছবি আঁকতে কষ্ট হয় তবে তুমি একজন পতির ছবি একো। দেখবে পতির মধ্যেই রয়েছে আমার সুপ্ত প্রতিভা, আমি সমাজ পতি, দেশ পতি, জাতীয় পতি, বিশ্বপতি। রক্ত আশার প্রয়োজন তাই আমি এত পতি। আমার জন্মগত দক্ষতাই আমাকে এত সব পতির আসনে অধরিত করেছে আমি পথের টোকাই নই। আমি যখন সমাজ পতি হই। তখন সমাজের মানুষরাই আমাকে রক্ত দেয় দেশ পতি হলে দেশের মানুষ, বিশ্ব পতি হলেতো কোন কথাই নাই বিশ্বে অজস্র মানুষ শুধু বেরেই চলেছে যত মানুষ বারবে তত রক্তের যোগান হবে বেশী। বিশ্বপতি হয়ে আমার রক্তের নেশা আরও বেড়ে যায়। তখন আমি বিশ্ব পতি, বিশ্বের সব নারী শিশু, কৃষক শ্রমিক সবাই আমার সব কিছুরই আমি একছদ্র অধিপতি খেটে খাওয়া বেহনতী মানুষের রক্তের কি স্বাদ- যেমন হুুইস্কী, শ্যামপেন, ভটকা বা রাম বড় পবিত্র আতœা। যেন “হলি সোল”। আমার অধীনস্ত এ বিশ্বের মানুষ এতো বোকা নিজের উলঙ্গ ছবি নিজে দেখেও লজ্জাবোধ করে না ওরা মনে করে ওদের উলঙ্গ ছবি ওরাই শুধু দেখেছে অন্যরা দেখে নাই। তাই লজ্জা পাওয়ার কি আছে। যাদের স্বপক্ষে লেখা হলো তারা অন্ধ অশিক্ষিত ওরা দেখতেও পারে না পড়তেও পারে না তাই উলঙ্গ চেহারায় থাকলেও আমার কোন অসুবিধা নেই। আমি উলঙ্গ হলেও যেকথা শুধু আমিই জানি। গোপন কথাটি এ ভাবেই গোপনে থাক।
কোন প্রতিবাদনেই ওরা ফেনসিডিল আর হিরোইনের ন্যাশায় মিত্ত ইংলিশ মদ ওদের ভাগ্যে জুটবে কি করে। ওরা শুধু খিক খিক করে হাঁসে নীরব নিহর। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে আমি ওদের রক্ত পান করার জন্য নিয়ে যাই মাঠে ময়দানে মিছিলে জনসভা বা ধর্মীয় সভায়, গয়াকাশী জেরুজালেম বা মক্কা শরীফে আফগানিস্তান বা বসনিয়া ও কাওকে নিয়েছি। ওরা অবোধ পশুর মত কোন বিদ্রোহ নেই। আমি ওদের বড় আতœার আতœীয় ওরা শুধু রক্ত দেয়ার অপেক্ষায় দাড়িয়ে এর পর ওদের উত্তর পুরুষ আমিও জন্ম দিয়ে যাই আমার পরে কে হবে এই জগতের আমির মুলতাজ বা রাজা মহারাজা কে?
রক্তের নেশা আমার আজীবন জন্মেজন্মান্তর শুধু দরিদ্র বিশ্বের মানুষ কেন, শুধু নারী আর শিশু কেন ফুরাত নদীর তীরে পিপাসায় শোকাত হোসেন পরিবার ওর রক্ত মুন্ডু কলিজার মোসারকের বিবাদ সিন্দুতে রয়েছে ইতিহাস বসনিয়া কলিজার চেচনীয়া ক্ষার ফিলিস্তীনের ঘটনা কি তার চেয়েও হৃদয় বিদারক। দেখনা অসহায় শিশুকে মেরে বাড়ী থেকে বের করে দিলে সে নিরুপায় হয়ে বাড়ীতেই ফিরে যায় প্রতারিত হয়ে বা ক্ষুধার জ্বালায় ঘর থেকে বেরিয়ে এলে, আমিই ওদের আশ্রয় দেই পতিতালয়ে মিস্টার হয়ে, ওরা কোন পুরুষের স্ত্রী হয়না পুত পবিত্র আতœা যেমন মা মরিয়ম। ওরা সৃষ্টিকর্তার দান উপভোগ করে না কি ত্যাগ লাইক হলিসোল ভাগ্যিস ইশ্বর ওদের পতিতালয়ে নেয় নি। মা মাদার তেরেসা কি এমনিতেই নোবেল পেয়েছেন তার তো আর ইয়াসির আরাফাত আর শীমন পেরেজেরন চরিত্র না। বিতারিত নারী আবার ফিরে আসে তালাক খেয়েও ওর শান্তি নেই আরও কিছু খেতে চায় জুতোর বারি, পাথর, বেত্রাঘাত অন্যের সাথে সহবাস এতোও তৃপ্তি হয় অবশেষে ওর করি শিরচ্ছেদ এটাই ওর পাপের শাস্তি। আমি হলাম সমাজপতি আর বিশ্বপতির মত এত ক্ষমতা না থাকলেও সমাজ প্রতি হিসেবে আমার কর্ম ক্ষমতা নেই। প্রয়োজনে জাতীয় পতি, দেশ পতি বা বিশ্ব পতির সাহায্যও আমার মজুদ আছে। বিশাল তেল ভান্ডার খেত খামার শিল্প কারখানা কত দীনিমজুর আর কৃষক শ্রমিক আমার কিসের অভাব।