একটি ভিন্ন প্রসঙ্গ

0 3,079

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলেকে এখন আমাকে অন্য একটি প্রসঙ্গে যেতে হচ্চে। অবশ্য এই প্রসঙ্গে রোগটির কিছু উপসর্গও আপনারা খুঁজে পাবেন। অনেক বছর আগে একজন মন্ত্রী মহোদয়ের সুস্থ চলচ্চিত্রের স্বপক্ষে কিছু জোরালো বক্তব্য শুনে আমি সমাজ ও মানুষের কথা নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরিতে হাত দিয়েছিলাম। টাকা-পয়সা যা ছিল শেষ করলাম কিন্তু ছবিটি শেষ করা হলো না। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট গেলাম পরামর্শ আর সাহায্য-সহনুভুতির জন্য। দেখা করা ভীষণ মুশকিল। হুকুম তামিরকারী ক্ষুদ্র ব্যক্তিটিকে কিছু বকশিশ দিয়ে কোন রকম ঢুকলাম মন্ত্রী মহোদয়ের রুমে। বললাম সমস্যার কথা, তিনি বললেন-‘অনুদান দেওয়া বন্ধ। অনুদানের টাকা নিয়ে আপনারা মুুদি দোকান করেন। সরকার সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মণের টাকা মুুদি দোকান করতে দেয় না’। কথাটি তৎক্ষাণাৎ আমার  খারাপ লাগলেও পরবর্তী সময়ে আমি স্বচক্ষে তার প্রমাণ দেখেছি। মুদি দোকান করলে কে, আর কথা শুনতে হলো কাকে। যেহেতু “আপনারা” শব্দ তিনি ব্যবাহার করেছিলেন, তাই ঐ দোকানদার  আমাদেরই কেউ একজন । সে কারণে তখন তাঁর কথার জবাব আমি দিতে পারিনি। এ হলো তথাকথিত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের মাত্র একটি উপদাহরণ। এ রকম হাজারো উদহরণ আছে, আমার আপনার সবার সামনে এবং ঘটছে প্রতিদিন অহরহ।
যাহোক আমিও নাছোর বান্দা। তাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবের কাছে আবেদন করলাম ছবিটি শেষ করার জন্য আর্থিক সহায়তার। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে আমাকে জানানো হলো-“আপনার আবেদন যথাবিহিতের জন্য নির্দেশক্রমে তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলো”। যেহেতু উল্লিখিত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের কথা আগেই শুনেছি । তাই তার কাছে না গিয়ে গেলাম সচিব মহোদয়ের কাছে। তিনি মার্জিত ভাষায় বললেন, “অমুক সেকশনে যান” খুঁজতে খুঁজতে গেলাম সেখানে। যিনি চলচ্চিত্র বিভাগ দেখাশুনা করেন তাকে খুঁজে পেলাম। রুমে ঢুকে সালাম দিলাম, কোন উত্তর পেলাম না, তিনি বই পড়ছেন। অনেক সময় এভাবে দাঁড়ায়ে রইলাম, কতক্ষণ দাঁড়ায়ে থাকা যায়। বললাম, স্যার আমি আপনার কাছে এসেছি। বই রেখে বললেন-বলুন, আমি রাষ্ট্রপ্রতির সচিবালয়ের চিঠিখানা দেখালাম। তিনি বললেন, যে সচিবালয় থেকে আপনাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেই সচিবালয় থেকেই অনুদান দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। আমি বললাম, আবেদনটি ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি বললেন “অনুদান রাষ্ট্রপতিই বন্ধ করেচেন”। কথাগুলো হলো দাঁড়িয়েই বসার কোন নামগন্ধ নেই। তার পর তিনি ফাইল তলব  করলেন, বেশ খোঁজাখুঁজি হলো, তখন আমার চিঠির কোন সূত্র ফাইলে তিনি পেলেন না। তাই ফিরে আসতে হলো। মনে মনে ভাবলাম, গেলাম একটা ভালো কাজের আবেদন নিয়ে, হলাম মুদি দোকানদার। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের চিঠির কোন সুত্র খুঁজে পেলেন না মন্ত্রণালয়ে। বসার ভাগ্যও যেখানে জুটল না। আমিই বা কত নামি-দামি লোক, তার চেয়ে কত নামি-দামি লোক দাঁড়িয়ে থাকে স্যারদের সামনে। অনুদানের অর্থে মুদি দোকান এই হলো আমাদের সততা।
আর আমাদের পাবলিক সার্ভেন্টদের সৌজন্যবোধ হলো দর্শনার্থীকে বসতেও না বলা। এভাবেই আমরা সরকারি অর্থ  আত্মসাৎ করি, যেমন- চলচ্চিত্রের টাকায় মন্ত্রীর ভাষায় মুদি দোকান আর পাবলিক সার্ভেন্টদেও সামনে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা আর সর্বোচ্চ দপ্তর রাষ্ট্রপতির প্রতি গুরুত্বের নমুনা।
যা বললাম, এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার, কারণ একটা ছিল উপসর্গের নমুনা, আসল রোগের সাথে আপনাদের পরিচয় করাব তার আগে আর একটি ছোট নমুনা-বেশ কিছুদিন আগে গেলাম আর একজন মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে একটা আবেদন নিয়ে, আবেদনটি ছিল অন্য একজনের, আমি গিয়েছিলাম তার উপকারের জন্য তদবিরে। মন্ত্রী মহোদয় আবেদনের স্বপক্ষে কাগজপত্র কি আছে দেখতে চাইলেন, দেখলাম দলিল, পর্চা, দাখিলা ইত্যাদি। একটা একটা জমির স্বপক্ষে সত্যতা যাচাইযের জন্য। তিনি বললেন-‘‘এরকম কাগজপত্র টাকা দিয়ে বানানো যায়” এ দিয়ে জায়গা পাবেন না। আমি বললাম, “স্যার, এই কাগজগুলো তো কোর্টের সিলমোহর করা। আমরা তৈরি করব কি করে, আর তৈরি করে অন্যের জমি নেওয়া গেলে জমি কিনে দলিলপত্র,দাখিলা, পর্চা করে কি লাভ? তিনি বললেন- দেখেন, আমি একজন ব্যারিস্টার, কোর্টে টাকা দিয়ে এরকম বহু কাগজ হয়, তার অনেক নজীব আছে। তিনি নিজে মন্ত্রী এবং একজন ব্যারিসটার। যে বিভাগে তিনি দেখেন সেখানকার দুর্নীতির কথা নিজেই স্বীকার করলেন অকপটে। কোর্টের কাগজপত্রের সত্যতা যদি না থাকে, জমির রেকর্ড-পত্রের দ্বারা যদি শর্ত প্রমাণ না হয়, তাহলে মানুষের জমি ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তরইবা কি দিয়ে যাচাই হবে। একজন মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার যখন বললেন এরকম হয়, তখন আমার অবিশ্বাসের আর কি আছে । আপাততঃ ফিরে আসলাম। রোগটির ভয়াবহতা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন স্বীকার করা হলো তখন সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই।
আমার তৃতীয় প্রসঙ্গ এর থেকে একটু আলাদা। একসময় আমি বেশ টাকার মালিক ছিলাম, ব্যবসাও করতাম বড়। একদিন রাত্রে বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে গেল। সঙ্গে দেড় লক্ষাধিক টাকা ছিল। পথে দুইজন ছিনতাইকারী পিস্তল ঠেকায়ে সব নিয়ে নিল ও মারধর করলো। ছিনতাইকারী দুইজনকে আমি চিনলাম এবং সমস্ত ঘটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালাম। এত টাকা ছিনতাই, পিস্তল দিয়ে এবং তার এলাকায় ঘটনা। কেন যেন ব্যাপারটি তিনি হালকা করতে চাইলেন। তিনি বললেন, আপনি সামান্য কিছু উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। আসামি ধরে আমরা টাকা রিকভারী করে দেব। তার ওপর বিশ্বাস করে মামলা করলাম। আসামি ধরার নাম গন্ধ নেই। চলল বেশ কিছু দিন। এদিকে যে টাকাগুলো ছিনতাই হলো তার মধ্যে বেশ কিছু টাকা ছিল অন্যের, তারা চাপ দিলেন । তখন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সহায়তায় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তকে বিষয়টি জানালাম। তার নির্দেশে তৎপর হলো পুলিশ,আসামি দু’জন ধরা পড়ল, এদিকে চাপ সৃষ্টি হয় আমার বাসায়। আসামিরা জামিনে এসে সরাসরি হুমকি দিতে লাগল। রাস্তাঘাটে চলা মুশকিল হয়ে গেল, জীবনের নিরাপত্তার অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাকেই কোর্টে দাঁড়িয়ে তাদের সাথে মীমাংসা হয়ে গেছে- এই লিখিত দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে হলো। যদিও যথারীতি চার্জশিট ছিল আসামিদের বিরুদ্ধে। কিছু বলার উপায় ছিল না। বাসায় নিরাপত্তা নেই, রাস্তাঘাটে চলা বিপজ্জনক, জীবনের উপর হুমকি, কারণ তাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাই লিখিত না দিয়ে উপায় কি, জীবনটা তো অন্তত বাঁচল। এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণে যাদের কাছে ঋনী ছিলাম তাদের টাকা দিতে পারলাম না। তারা চাপ দিতে লাগল, রংবাজ দিয়ে হামলা দিল আর তাদের সাথে যোগ দিল ঐ ছিনতাইকারীরা।আমার অনুপস্থিতে বাসা থেকে জোর করে নিয়ে গেল কালার টেলিভিশন, ফ্রিজ, আরও কিছু জিনিসপত্র। মামলা করে কি লাভ, আবারও তো প্রত্যাহার হবে। রংবাজরা নাকি এগুলো বিক্রি করে মামলার খরচ তুলবে। যাহোক এগুলো দুর্ঘটনা, তারপর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, বাসা ভাড়া স্বাভবিকভাবেই বাকি পড়েছে, মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বললেন। ভাড়া দাবি করলেন টাকা না দিয়ে তো আর বাসা ছাড়া যায় না। তাই সময় চাইলাম কোন অনুকম্পা নেই। আবার তিনি হাজির করলেন রংবাজ নিয়ে, নিরুপায় হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিলাম। লাভ যা হলো তা আর বলতে চাই না, উপরন্ত পুলিশকে জানানো হলো ভাড়া না দেওয়ার অপরাধ। আর সে অপরাধের কারণেই ক’দিন মালিক ঘুমন্ত অবস্থায় বাইওে তালাবন্ধ করলেন আমাকে। ফোন করলেন থানায়, যথারীতি পুলিশ এল, তালা খোলা হলো, কিন্তু ঘরের জিনিসপত্র রেখে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে নামতে হলো রাস্তায়। ঢাকার রাজপথে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ঘরের জিনিসপত্র পরে লিখিত দিয়ে হস্তান্তর করতে হল বাসার মালিককে। উপায় ছিল না, তখন তাঁর আত্মীয় আর্মি অফিসার। অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেছেন। একজন বড় পুলিশ অফিসার তার আত্মীয় তাও জানি। রংবাজও আছে তাদের হাতে, আমার কে আছে। না আছে আইন, না আছে আর্মি, না আছে পুলিশ আর রংবাজ। পুলিশ, আর্মি আর আইন যা-ই হোক, ভয় রংবাজদেরই িেশ। কারণ আইনের লোকেরা তো গুলি করতে পারবে না সহজে। কিন্তু অবৈধ অ¯্রধারী রংবাজদেও তো বাধা নেই। আর আমার সূত্র ধরে ইতোপূর্বে ঐ রংবাজরা তো আমার এক বন্ধুকে ধরে নিয়েছিল। সর্বোদচ্চ বিদ্যাপীঠ ভার্সিটির হলে করেছিল মারধর। দেখিয়ে ছিল স্টেনগান, নিয়েছিল টাকা। পাঠক মনে করতে পারেন, কোন প্রসঙ্গ থেকে কোন প্রসঙ্গে এলাম। আসার কারণ হলো, আমার নিজের জীবনের কিছু ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়ে আমি বুঝাতে চাইছি সমাজের অবস্থা। এ সমাজের মানবতা, নাগরিক অধিকার, জন-জীবনের নিরাপত্তা ইত্যাদির বাস্তবচিত্র। যে সমাজে মানবতা নেই, নাগরিক অধিকারের মূল্য নেই, নিরাপত্তা নেই, সে সমাজে বাস করা যে কি কঠিন তা আমার জীবনের এই বাস্তব ঘটনাই প্রমাণ করে।
যাহোক আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রথম প্রসঙ্গটি ছিল-একজন মন্ত্রীর বিদ্রুপত্ত্বক মনোভাব, পাবলিক সর্ভেন্টের ব্যবহার। দ্বিতীয় প্রসঙ্গে ছিল আইন মন্ত্রী মহোদয়ের উক্তি। সমাজের সভ্য মানুষের ব্যবহার যে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে তা আর  ব্যাখা দেয়ার প্রয়োজন নেই। সমাজের পরতে পরতে এই বীজ আর এর অঙ্কুরোদগম হয়েছে, কাটুঁনটি যখন এসেছিল কাগজে তখন থেকেই। আজ তা অনেক বড় হয়েছে, ডালপালাও হয়েছে অনেক। দিন দিন দুর্নীতি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, সরকারি কর ফাঁকি ইত্যাদি। মালপত্র কেনার খবর নেই, শুধু বিল আর ভাউচার। উপমা বা ব্যাখ্যা দিতে গেলে কয়েক হাজার পৃষ্ঠায়ও এর সংকুলান হবে না। তাই এত উপমা না দিয়ে শুধু দুটো ঘটনার কথা উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গ শেষ করব।
একজন প্রকৌশলী, যার কয়েকটা বাড়ি আছে বেনামে, অথচ পঞ্চাশ হাজার টাকা বাসা ভাড়ায় থাকেন। সরকারি গাঢ়ি ছাড়াও নিজের দুটো গাড়ি। বাসায় কয়েক লক্ষ টাকার জিনিসপত্র। ব্যবসাও করেন অন্যকে দিয়ে । আমার প্রশ্ন হলো, তিনি কত বেতন পান? শুধু এই প্রকৌশলী কেন, এ রকম হাজারও চাকরিজীবি এ চেহারায় আছেথ এই সমাজে। ঘুষ আপনি দিবেন না, কাজ হবে না। ঘুষ দিলে এক টাকার জিতনিস দশ টাকায় সরকারের খাতায় লেখাতে পারেন। প্রশ্ন হলো, সরকার কি এগুলো দেখছেন না? প্রশাসন কি কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেন না? কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। সরকারের কত লক্ষ কর্মচারী আছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার? এদেশে সর্বনি¤œ পর্যায় থেকে সবোঁচত্চ পর্যায় পর্যৗল্প ছড়িয়ে গেছে এই রোগ। আইন কওে কি এগুলো বন্ধ করা যায়? কতজনের বিরুদ্ধে হবে দুর্নীতির  মামলা, আর সবাই যদি পড়ে দুর্নীতির মামলায়, তবে অফিস-আদালত চলবে কিভাবে? সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ক্যান্সারের মত প্রসারিত এই রোগ। আমার শেষ প্রসঙ্গটি যাকে নিয়ে, তিনি বলেছেন অন্য কথা। ভদ্রলোক একজন কর্মচারী, চার হাজার টাকা বেতন পান। লোকটিকেও এই রোগে পেয়ে বসেছে। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই বৃদ্ধ বয়সে ঘুষ না খেলে কি হয় না? কতদিন আর বাঁচবেন। যেহেতু মুসলমান, কবরে তো যেতেই হবে। ভদ্রলোক বললেন, “আরে ভাই জান বাঁচানো ফরজ”। তিনি বললেন, থাকি ঢাকা শহরে ১৫,০০০ টাকা বাসা ভাড়া, ছেলে-মেয়ের স্কুলের বেতন লাগে ১৬,০০০ টাকা, কাপড়-চোপড় মাসে গড়ে ৫,০০০ টাকা, নিজের যাতায়াত খরচ ২,০০০ টাকা, বাজার ১৫,০০০ টাকা, চাউল ৭,৫০০ টাকা, আত্মীয়-স্বজন আর বাজে ভরচ আরও ধরেন ৫,০০০ টাকা, অর্থাৎ মাসে আমার ৬৫,৫০০ টাকা। বেতন পাই সব মিলে চার হাজার টাকা। যে খরচের কথা বললাম, এ তো না হলেই চলে না। এখন বলুন এগুলো না হলে জান বাঁচে? তাহলে চিন্তা করুন, বাসার মালিক ছয় মাস পর বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। অথচ বাসায় কোন ইকেট্রিসিটির মিটার নেই, পানির মিটার নেই, আমরা এগুলোর বিল দেই। তিনি নাকি কর্মকর্তাদেও খুশি কওে এগুলেঅ চালায়ে নিচ্ছেন। অথচ বলেন যে, চ্যাক্স এত বেশি ভাড়া না বাড়ায়ে কি করবেন? তিনি আরও বললেন- সরকারের খাতায় তিনি দেখান, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা অথচ আমরা দেই পনের হাজার। বলুন, দুর্নীতি ছাড়া কে আছে। আমরা না হয় সরকারি কর্মচারী, সমান্য কিছু খাই। একজন বাড়ির মালিক তার কী অভাব যে, তিনি দুর্নীতি করেন। ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি চুপ করে  গেলাম, বলার কিছুই পেলাম না। কারণ আমার এই সমাজের সবাই এই রোগে আক্রান্ত। কে কাকে বলবে? সরকারের পক্ষে এই রোগ আর এখন আইন কওে সারানো সম্ভব নয়, যতদিন আমরা সবাই এই রোগ হতে মুক্ত হয়ে সৎ ন্ াহই। এ রোগ আমাদের  এবং আমরাই এর ডাক্তার। এ রোগের জন্ম এক দিনে হয় নাই, এর জন্ম আজ থেকে চার দশক আগে এবং এখন সমাজে ভয়াবহ আকাওে বিরাজমান। খাদ্যে ভেজাল, ওজনে কম, মজুদধারী, অধিক মুনাফা জোর-জবরদস্তি, চাঁদা আদায়, ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে প্রকৃত কাজে খরচ না করে আত্মসাৎ করার প্রবণতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষের সাথে সৌজন্যবোধ রক্ষা না করা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, রক্ষক ভক্ষকের ভ’মিকায় অবতীর্ন হওয়া, স্বজনপ্রীতি, প্রতিভার অবমূল্যায়ন, রাজনীতিবিদদের মিথ্যা বুলি, মানুষকে ধোঁকা দেয়া, ঘুষ ছাড়া কোন কাজ না হওয়া এখন আর কারও অজানা নয়। তবু আছি আমরা এই সমজে, থাকবো ভবিষ্যতেও । কারণ যারা এই রোগে আক্রান্ত তারাও এই সমাজেরই লোক এবং আমার আপনার মতই কেউ। লোক আছে সমাজ আছে, সবকিছুই চলছে, কিন্তু যা নেই তা হলো দেশপ্রেম, সততা, মানবতা আর দায়িত্ববোধ।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.