কাউকে দেখি কোট-টাই পরা
কারো আবার শরীরে নেই জামা,
কারো উগ্র কন্ঠ, কারও মিষ্টি
কারো আবার চিরতরে থামা।
আমি শুনি শান্তির বাণী
শুনি মহাপ্রলয়ের ডাক,
দেখি মুক্ত আকাশে উড়ে যায়
ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষুধার্ত কাক।
কোথাও দেখি আঁটসাঁট বাড়ি-গাড়ি
চারপাশে চৌকিদার, দারোয়ান
কোথাও ছাদ নেই, খোলা বস্তি
মেঠোপথে পোস্টম্যান আর গারোয়ান।
কারো পায়ে দামি জুতো স্যান্ডেল
দম্ভ ভরে হাঁটা উগ্র আচরণ,
কারো দেখি পঙ্গু অথবা
নগ্ন পদে বিচরণ।
কোথাও দেখি টিউব লাইট
হলুদ মার্কারির বিচ্ছুরণ,
কোথাও দেখি সম্বল কুপি
হারিকেন অথবা চন্দ্রকিরণ।
কোথাও গরমে ফ্যান
এয়ারকুলার বা কন্ডিশন
কারো নেই বসত বাড়ি
তাই করেছে বস্তি বরণ।
কারো পাকা বিল্ডিং,
অথবা কাঁচা পাকা বাড়ি
কেউ আবার যাযাবর
সহায় সম্বল ছাড়ি।
কেউ আরামের জন্য রেখেছে জানালা
ঢুকবে নির্মল পবন,
কারো ঘর-বাড়ি নেই
আশ্রয় প্রকৃতির বন।
কেউ উড়ছে আকাশে, চড়ছে জাহাজে
খুশি করছে মন,
কারো আবার ঠিকানা নেই
নৌকায় ভাসমান জীবন।
কেউ রুপালি পাল টানিয়ে
করছে বিজয়ের প্রতিযোগিতা,
কারো নৌকায় পাল নেই, শরীরে জামা নেই
নেই আরামদায়ক গায়ে কাঁথা।
কেউ লিখছে সাহিত্য অথবা কবিতা
অর্থনীতি বা সাংবাদিকতা
কেউ পড়ছে কোরআন-বাইবেল,
মহাভারত বা গীতা।
কারো চোখ অন্ধ, পাওয়ারের চশমা
অথবা শখের ‘গলজ’ আঁটা,
কেউ কিশোর কেউ যুবক
কারো বয়সে পড়েছে ভাটা।
কেউ লিখছে প্রেমকাহিনী
রম্য অথবা গীতি কবিতা,
কেউ লিখছে উপদেশ বাণী
অথবা অমর জীবনগাঁথা।
কেউ দ্রুত চলছে গাড়িতে
কেউ নিতান্ত পায়ে হেঁটে,
কারো রুজি কলমের খোঁচায়
কারো গায়ে খেটে।
কারো দামি পোশাক-আশাক
কেউ আবার সাদা মাটা,
কারো সুগঠিত শরীর
কারো আবার যা তা।
কেউ প্রৌঢ়ে যুবক
কেউ যৌবনে হয় বৃদ্ধ,
কারো জীবন আরাম আয়েশের
কারো কাছে রীতিমত যুদ্ধ।
কারো দেশে জোটে না চিকিৎসা
কারো হয় বিদেশে যাবার সুযোগ,
কারো কাস্তে কুড়ালে রুটি-রুজি
কারো ভয়াবহ দুর্যোগ।