যখন দেখি নিরন্ন মানুষ ক্ষুধায় কষ্ট পায়
মা-বোনেরা অভাবে পতিতালয়ে যায়
অন্ধরা হাত পেতে দু’টি পয়সা চায়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি দরিদ্ররা অর্থ রোজগারে কঠিন বোঝা বয়
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বারান্দায়
কম দামের খাদ্যের জন্য প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়ায়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি পয়সার অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হয়
যৌতুকের জন্য নারীরা নির্যাতিত হয়
মা-বাবা অর্থ কষ্টে সন্তান বেঁচে দেয়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি পায়ের নিচে অধিকার দলিত হয়
বিচারের আশায় দরিদ্ররা বিচারালয়ের বারান্দায়
বিচার না পেয়ে তারা খোদার কাছে আকুতি জানায়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি কবি-সাহিত্যিক মরে যায় বিনা চিকিৎসায়
শহীদ পরিবার ভিটা মাটি ছেড়ে চলে যায়
দুর্নীতিবাজরা প্লেনে চড়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যায়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি অর্থ লোভীরা ঔষধে ভেজাল মেশায়
খাদ্যে মেশায় প্রাণঘাতি বিষ
আর তা খেয়ে লক্ষ মানুষের জীবন হয় নিঃশেষ
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি দুর্বৃত্তরা নির্বিচারে হত্যা করে মানুষ
আটক করে রাখে মুক্তিপনের জন্যে।
অবৈধ অর্থ রোজগার করে হয় তারা কেউ ধন্য
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি দরিদ্র কৃতী ছাত্র-ছাত্রীরা
উচ্চশিক্ষা পায় না শুধু অর্থের জন্য
পাস করেও চাকরি কোঠায় তারা শূণ্য
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার হাতে ভিক্ষার পাত্র
বীরাঙ্গনারা সমাজে বড়ই ঘৃনিত
যুদ্ধাপরাধীদের পায়ের নিচে মানবতা দলিত
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি বুটের নিচে গণতন্ত্র
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের গাড়িতে পতাকা
দিনে ভণ্ড তপস্যা, রাতে হাতে মদের পাত্র
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে
মানবতাবাদীর লেবাস ভণ্ড বুদ্ধিজীবী
বিচারকের চেয়ারে বসা কিছু অসৎ অর্থজীবী
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি গণতন্ত্রের নামে বাক্-স্বাধীনতা রুদ্ধ
মিছিল-মিটিং, জ্বালাও-পোড়াও আর হত্যাকান্ড
মানুষের চলাচলের সকল রাস্তাঘাট বন্ধ
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি মানুষ ধর্ম না বুঝে ধর্মান্ধ
অন্যায়-অন্যায্য দাবিতে সব কিছু বন্ধ
ঘুষখোর, সুদখোর আর স্মাগলারের গায়ে ফুলের গন্ধ
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি মানুষের স্বার্থে নদী খাল বিল ভরাট
বন বাদার সব নির্দ্ধিধায় উজার
পশু পাখি বন্য প্রাণী সব জীববৈচিত্র বিপন্ন
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
মানুষ যখন ধর্ম আর মতবাদ নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত
মানবাধিকারের নামে মানবতা বিপন্ন
নারী আর শিশুরা হচ্ছে ভোগের পণ্য
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি ভণ্ড বুদ্ধিজীবীরা বাজারের পণ্য
ধর্ম ব্যবসায়ীরা মানবতাকে করছে না গণ্য
রাজনীতিবিদরা গুপ্ত হত্যায় লিপ্ত ক্ষমতার জন্য
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি মানুষ ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত
সামাজিক, রাজনৈতিক আর আর্থিক ক্ষমতা না থাকায়
অসৎ মানুষগুলো বসে আছে সম্মানের জায়গায়
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার
আর কোটি কোটি মানুষের অর্থে বানানো যুদ্ধাস্ত্র
তা দিয়ে ধ্বংস হচ্ছে লক্ষ নিরপরাধী নিরস্ত্র
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি সম্মানিতরা অসম্মানিত
অপরাধীরা উপরের তলায় সম্মানে ভূষিত
তাদের জন্য জাতিরা হচ্ছে কলংকিত
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
যখন দেখি মানুষের উন্নয়নের নামে শোষণ
সামাজিক ব্যবসার নামে খুলে নিচ্ছে বসন
সামাজিক মর্যাদা আর আতœসম্মানে হচ্ছে বিসর্জন
নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
আরও আছে কষ্টের অনেক ধরন
জানি তা ব্যক্ত করলে
নিশ্চিত ফাঁসিতে হবে মরণ
নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়।