ভোক্তাদের ভোগান্তি

“ভোক্তারা ভোগ করে তাই তারা পে করে’’ এটা চিরন্তন সত্য। কোন কোন ভোক্তার পক্ষে পে করা কোন বিষয় নয় আর কারও কারও কাছে পে করতে বড় কষ্ট হয়। ভোক্তা জনগোষ্ঠির মধ্যে মাত্র ৫ ভাগ অতি সামর্থবান-১৫ ভাগ মোটামুটি সামর্থবান আর অবশিষ্ট ৮০ ভাগ সামর্থহীনের পর্যায়ে।

মৌলিক চাহিদা পুরনের সব উপকরণ, বিনোদন বা বিলাসিতা অথবা অতি অপচয় কোন কিছুই অতি সামর্থবান ভোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয় বরং ভোক্তাদের সকল জীবন উপকরণ তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। মোটামুটি সামর্থবানরা অতি সামর্থবানদের কাছাকাছি থেকে কিছুটা হলেও সামর্থ অর্জন করে এবং তাঁরাই অতি সামর্থবানদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করে। যে কোন দ্রব্য সামগ্রীর দাম, খাদ্যদ্রব্য সহ যে কোন মৌলিক চাহিদা পুরনের উপকরণই হোক না কেন তার দাম বৃদ্ধি পেলে তা সকল শ্রেণীর ভোক্তাদেরই পে করতে হয়। এই মূল্য বৃদ্ধির খরচ অতিসামর্থবান আর মোটামুটি সামর্থবানদের খরচ করতে তেমন কোন কষ্ট না হলেও হীন সামর্থবানদের প্রাণ যায় যায়। এই হীন সামর্থবানদের দেহের শ্রমশক্তি ছাড়া কোন সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক এমনকি মানবিক অধিকারের ও শক্তি নাই। তাদের পুঁজি হোল দৈহিক বা শ্রমশক্তি।

সরকার যদি ভ্যাট বা মূল্যসংযোজন কর বাড়ায় তার সবটা সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র বা হীন ভোক্তা শ্রেণীর ঘাড়ে চাপে বরং সামর্থবান বা মোটামুটি সামর্থবানরা দরিদ্র ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আতœসাৎ বা নিজেদের পেট ভারী করে। এমন কি ভোক্তা অধিকার বা সংরক্ষণ ও তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

মজুদ করে মূল্য বৃদ্ধি, কৌশলে ওজনে কম, ভেজাল মিশানো এর সবকিছুই হয় অতিসামর্থবান আর মোটামুটি সামর্থবানদের দ্বারা শুধু শিকার হয় সামর্থহীন বা সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র ভোক্তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় উন্মাদনা, কৃত্রিম সংকট বা কোনও মরণব্যধির প্রকোপের শিকার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

শুধু ভোক্তা হিসেবে তারাই যে সব ক্ষতির শিকার তাই নয়, দারিদ্রতার কারণে তারা বঞ্চিত, শোষিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, নিঃগৃহীত ও আত্ম-সম্মানহীন হিসেবে ধনীক শ্রেণী বা সামর্থবানদের পরিচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোগান্তির শিকার এই দরিদ্র গোষ্ঠী সমাজের ৮০ ভাগ হলে মাত্র ৫ ভাগ বা তাদের সহযোগী ১৫ ভাগ এই মোট ২০ ভাগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত- কারণ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব, নিজেদের মধ্যে একতার সমস্যা, আর সুযোগ এলেই শ্রেণী বদল করে মোটামুটি সামর্থবান বা অতিসামর্থবানদের দলে মিশে যাওয়া।

Comments (0)
Add Comment