জনগণের প্রতি রাষ্ট্র-যন্ত্রের দায়িত্ববোধ আর নৈতিকতা কতটুকু তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। অফিস-আদালতে ঘুষ ছাড়া কোন কিছুই হয় না। স্বজন অথবা ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া যায় না। মজুদদারদের সংগঠিত অপকর্মে দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। রাজনীতির নামে লুটপাট, চাঁদাবাজী আর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা। ভোট নিয়ে বাণিজ্য। এসব কিছুর জন্যে ক্ষমতাসীনরা জনসাধারণের কাছে থেকে শ্রদ্ধার পরিবর্তে ঘৃণা আর ধিক্কার পায়। রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক দলগুলোর পৈত্রিক আর পারিবারিক সম্পত্তি মনে করেও তা ভাগ বাটোয়ারা করার বিষয়ে সবাই অবগত। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা প্রদানের পরিবর্তে জনগনকে জিম্মি করে নিগৃহীত করার কথা আজ আর কারও অজানা নয়। দারিদ্র বিমোচনের কথা বলে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো দরিদ্র মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ করছে। সর্বক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের নামে অর্থনৈতিক শোষণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের রক্ত শোষণ করা হচ্ছে। নারী অধিকারের নামে দরিদ্র নারীদের মর্যাদাহানীর পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপি ক্ষুদ্রঋণকে দরিদ্র মানুষের রক্ষাকবচ বলে প্রশংসা করছে, আর করবেই না কেন? দারিদ্র না থাকলে অর্থদাতাদের কর্তৃত্ব থাকবে কি করে? দারিদ্র্য না থাকলে উন্নয়নের ঔষধ বিক্রি হবে কিভাবে? মিথ্যা, প্রতারণা, অপকর্ম, বড় বড় বত্তৃতা, মিছিল-মিটিং এসব কিছুই রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মাধ্যম। আমাদের বরেণ্য রাজনীতিবিদ আর তথাকথিত সুশীল সমাজ দেখছেন না যে, নিরক্ষর মানুষগুলোর সরলতার সুযোগে অংকের ফাঁকে তাদের উপার্জিত অর্থ কিভাবে লুটে নেয়া হচ্ছে।
রাস্ট্র ও উন্নয়ন
বি.দ্রঃ মন্তব্যটি নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয়।