শান্তির সন্ধানে গড়েছি একটি মিশন
তার নাম শান্তি মিশন।
এখানে হিন্দু মুসলিম
মাঝে মধ্যে আসে বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
সবাই মিলেমিশে থাকে
নেই কোন ব্যবধান।
বনজ ফলজ আর ঐষধি গাছের সমাহার
পশু-পাখি আর কীট-পতঙ্গের বসেছে বাজার
কেউ কারো শত্র“ নয়
মিলেমিশে সবাই হয়ে গেছে একাকার।
শিশুরা হেসে খেলে বেড়ায়
দল বেঁধে সবাই
বেড়ায় এ পাড়ায় ওপাড়ায়।
ভোরে পাখির ডাক
মুয়াজ্জিনের আযান
অথবা ঢোলের বাদ্য
সে যে কত আনন্দ!
রাতে জোনাকির আলো
ঝিঝি পোকা আর ব্যাঙের ডাক
অথবা দূর থেকে শেয়ালের হাঁক।
ধর্মসভা, শ্রীকীর্তন অথবা ফকিরি গানের পালা
পাল তোলা নৌকায় কোন বিরহী বধূর জ্বালা।
চারদিকে সবুজ মাঠ
কালের সাক্ষী নিথর খাল বিল
কলতানহীন বক্ষে
নীরবে কাঁদে নদী চন্দনা।
হারিয়ে যাওয়া পাখিগুলো আবার হঠাৎ উড়ে আসে
পুকুর পাড়ে কদম গাছে
কানা বগা-বগী কখনও এসে বসে
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে
ওরা এখনও টিকে আছে।
কানাকুয়ার ডাক শুনি ডাহুক কোথায়?
গুঁই সাপ আর কচ্ছপ আছে
ঘড়িয়ালও শুনেছি আছে।
কুটুম পাখি বউ কথা কও
মাঝে মাঝে ভুতুম ডাকে
আশেপাশে সাপ নাকি আছে।
ছোট ছোট মাছ
এখনও কিছু পাওয়া যায়
তবে দেখতে সুন্দর
অনেক ছোট মাছ হারিয়ে গেছে।
শাপলা-শালুক আর পদ্ম?
শাপলা, শালুক কিছু আছে
নেই বেগুনি সাদা আর নীলপদ্ম।
ছোট বড় বেতের ঝাড়গুলো
বাগডাসার আশ্রয়
মৌচাক টুকটাক আছে
কিন্তু বেতের ঝাড় কোথায়?
শোলের বিল এখন ইরির ব্লক
ছোট জুলাখাল নেই
হয়ে গেছে তা ছোট ছোট পুকুর।
পলাশ, শিমুল আর বট
এসব গাছে যেসব পাখি বসত
তারা আর নেই এখন।
জুয়ারে, মাশালে, পদ্ম আর টেরা বিল
এতসব মনোরম জলাশয়
গেল কোথায়?
গাছ কেটে ফেলেছে
তাই পাখিগুলোও চলে গেছে
আর হয়তো আসবে না ফিরে।
বিলে যেসব মাছ থাকতো
শাপলা-শালুক পদ্ম আর শ্যাওলা
কোথায় গেল তারা?
দেখতে দেখতে চেখের সামনে
সবই গেল উজাড় হয়ে
এখন এসব পাব কি করে?
আসুন না দেখি চেষ্টা করে।
অরণ্য না হয় ফিরে পেলাম
অরণ্যের সেসব পাখি কীটপতঙ্গ
কি করে ফিরে পাব?
সেই খাল-বিলগুলো
এ প্রজন্ম যা দেখে নাই
তাদের কিভাবে বুঝাব?
অন্তত একটি আশার বাণী
যা হারিয়েছি তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি
যা-কিছু আছে তা টিকিয়ে রাখি
টিকে থাকি আমরা ও আমাদের প্রকৃতি।