সৌদি আরব-ইসরাইল সম্পর্ক শুধু অভিন্ন শত্রুর কারনে তারা মিত্র নয়!

 

ইরানের সাথে সৌদি আরবের শ্ত্রুতার কারন কি শিয়া-সুন্নী বিরোধ? আঞ্চলিক আধিপত্য? না অন্য কোন বিষয়? ইরান কখনও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করতে গেছে এমন কোনও নজির নেই। শিয়া-সুন্নী মতবাদ নিয়েও তাদের বিরোধে জড়ানোর ইতিহাস নেই। তাহলে ইরানের প্রতি মুসলমান হিসেবে আর একটি মুসলিম দেশের প্রতি সৌদি আরবের গাত্রদাহ কেন?

আমার ধারনা মতে – ইসলামে রাজতন্ত্র নেই, খেলাফত নেই, আমিরাত প্রথাও নেই। এসবের কোনও নিদের্শনা শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) দিয়ে যাননি অথচ সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশে তা বলবৎ রয়েছে দেড় হাজার বছরের কাছাকাছি। ইসলামে রাজতন্ত্র রীতিমত অনাচার। ইসলামে কোন রাজতন্ত্র নেই সবই হয় ইসলামিক গনতান্ত্রিক পন্থায়। নেতা নির্বাচনের যে দিক নির্দেশনা ও মাপকাঠি দিয়ে গেছেন মুহাম্মদ (সাঃ) ঠিক সেই পন্থায়।

সৌদি আরবে যদি ইসলামী গনতন্ত্রের উদয় হয় এবং তা প্রকৃত ইসলাম বা ইরানী পন্থায় তাহলে হুমকীর মুখে পড়বে সৌদি রাজতন্ত্র, এমনকি বিলুপ্তির সম্ভাবনাও শতভাগ। ইরানের রেজা শাহ পাহলবীর বিরুদ্ধে ইরানীদের বিপ্লব তো সৌদিসহ অন্যান্য রাজতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলো দেখেছে। তাই তাদের গদি হারানোর ভয়!

ইসরাইল ইরানকে নিয়ে এত ভীতু কেন? পবিত্র কোরআনে ইসরাইল একটি অভিশপ্ত জাতি। তারা আল্লাহ্‌র নির্দেশ অমান্য করেছে। শক্তিধর রাষ্ট্রের সহযোগীতায় মুসলমানদের ভূখন্ড দখল করে ফিলিস্তিনীদের নিজ ভূ-খন্ড থেকে বিতাড়িত করেছে, তাদের অবরোধ করে রেখেছে যুগের পর যুগ। আরব বিশ্ব একযোগে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করেও হেরেছে এবং ভূ-খন্ড হারিয়েছে। অথচ ইরানপন্থী হিজবুল্লাহদের সাথে যতবার যুদ্ধে জড়িয়েছে ততবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরাইল। সমগ্র আরব রাষ্ট্র যখন ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে হেরে গেছে সেখানে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্টি হিজবুল্লার কাছে ইসরাইলের পরাজয় বিশ্বকে যেমন অবাক করেছে ইসরাইলকেও করেছে ভীত! সৌদি আরব তা ভাল ভাবেই পর্যবেক্ষণ করেছে।

ইসরাইলের পাশে ইরানপন্থী হিজবুল্লাদের উত্থানে, সৌদির প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইয়েমেনে ইরানপন্থী হুথি আদিবাসীদের শক্তিশালী অবস্থান সৌদি আরবকে আতংকিত করেছে কারন তাদের গদি হারানোর ভয়! শিয়া সম্প্রদায়কে সৌদির শাসক গোষ্টি ঐতিহাসিকভাবেই ভয় কেন তা মুসলমানদের ভালভাবেই জানা আছে তা না হয় এখানে ফাঁস নাই করলাম।

মুসলমান হয়ে সৌদি আরব একটি দরিদ্র রাষ্ট্র ইয়েমেনের হুথী সম্প্রদায়কে ইসরাইলের সহযোগিতায় কেন নিশ্চিহ্ন করছে তা বিশ্বের সচেতন মানুষ অবশ্যই অবগত আছে। সৌদি কতৃর্ক ইরানী হাজীদের পবিত্র ভূমিতে নির্মমভাবে হত্যার নজীরও বিশ্ববাসী দেখেছে। সমগ্র বিশ্ব এটাও অবগত আছে যে, আজ যে ভূ-খন্ডটি সৌদি আরব নামে মানচিত্রে স্থান পেয়েছে পবিত্র কোরআনে এই ভূ-খন্ডটির নাম কি বলে উল্লেখ করা হয়েছে আর সেই কোরানিক নাম কারা কোন স্বার্থে কখন পরবর্তন করেছে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার পরিবারের প্রতি কি আচরণ করেছিলো  বর্তমান শাসক গোত্র ইতিহাসে তার সবই উল্লেখ আছে।

ইরান শক্তিশালী হলে এবং ইরানী স্টাইলে রাজতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলোর নায়কদের গদি হারানোর ভয়, সৌদি আরবের ইরান র্কতৃক প্রতিশোধের ভয়, ইসরাইলের ভয়, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লা র্কতৃক রাজ্য হারানোর। সৌদি আরব-ইসরাইলের সম্পর্ক, এই অভিন্ন স্বার্থের কারনেই কি ইরান-সৌদি আরব আর ইসরাইলের শত্রু?

শুধু কি সৌদি আরবের সাথে ইসরাইলের গোপন সম্পর্ক রয়েছে? না তা নয়।

ইসরাইলের জ্বালানী মন্ত্রী প্রকাশ্যে মিডিয়াতে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, “বিভিন্ন আরবও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে”।

মুসলিম দেশ কাতার ও জর্ডানের সাথে রয়েছে ইসরাইলের প্রকাশ্য কুটনৈতিক সম্পর্ক। প্রসঙ্গত মুসলমানরা  মুসলমানদের যত ক্ষতি করেছে অন্যকোন ধর্মে বিশ্বাসী বা সম্প্রদায় তা করেনি! মুসলমান-রা মুসলমানদের সাথে চরম বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে তাও সমগ্র বিশ্ববাসীর জানা।

সৌদি আরব যেমন রাজতন্ত্র রক্ষার জন্য সম্প্রদায়গত স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে , পারিবারিক সম্পদ রক্ষার জন্য গনতন্ত্রপন্থী আমেরিকা ও ইসরাইলের সাহায্য নিচ্ছে, কোটি কোটি ডলার খরচ করছে আমেরিকা ও ইসরাইল থেকে অস্ত্র কিনে এবং নিজেদের রক্ষা আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সারা মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা অথচ আফ্রিকার মুসলিম সম্প্রদায় দূর্ভিক্ষে, অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে! এই হলো মুসলিম-মুসলিম ভাই ভাই!!
সবশেষ কথা হলো সৌদি আরবের রাজপরিবারের গদি হারানোর ভয়! ইরান র্কতৃক সে দেশের হাজীদের নির্মমভাবে হত্যার প্রতিশোধের ভয় আর ইসরাইলের ভীতি হলো ইরানপন্থী ইজবুল্লাহ র্কতৃক রাষ্ট্র হারানোর ভয়! এখানে ইহুদী মুসলিম কিম্বা শিয়া সুন্নী  মূল বিষয় নয়।
আর এই হলো সৌদি আরব-ইসরাইল গোপন সম্পর্কের রহস্য এবং অভিন্ন শত্রুর কারনে তাদের মিত্রতার কাহিনী।

Comments (0)
Add Comment