স্বাধীনতায় সাধ মিটেছে যাদের

স্বাধীনতার কারিগর বা জনকের দু-একটি মনস্তাপের বাক্য দিয়েই শুরু করিঃ

  •  বিশ্ব আজ দু-ভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত আমি শোষিতের পক্ষে।
  •  সাড়ে সাত কোটি বাঙালী দানের কোম্বল আট কোটি আমার কোম্বল কোথায়?
  •  আজ বিধস্ত এই দেশে মানুষ অসহায় অথচ আমি যেদিকে চাই দেখি শুধু চোর আর চোর।
  • আজ যারা বড় বড় অফিসার হয়ে চেয়ারে বসে আছেন বা অবসরে চলে গেছেন কেউ কেউ প্রোথিত যশা মুক্তিযোদ্ধার খেতাব নিয়েছেন দেশ স্বাধীন না হলে তারা অফিসারের বদলে কেরানী আর মুক্তিযোদ্ধার বদলে বিছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী, জঙ্গী বা দেশদ্রোহী বলেই পরিগনিত হতেন। সে বিষয়ে তাদের কোন কৃতজ্ঞাবোধ নেই।
  •  এই সব আমলা তৎকালীন রাজনীতির কাছাকাছি থাকা কিছু ভাগ্নান্বেষী অসৎ ব্যবসায়ী এবং তারপর বিশেষ করে প্রশাসনে থাকা রাষ্ট্রীয় ও সরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তারা হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। অর্থবৃত্তে তাদের নুতন প্রজন্ম ও নৈতিকতাহীন তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত উদীয়মান ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে স্বাধীনতার পর শহর ও গ্রামে দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে বিশেষ করে রাজস্ব বিভাগ, পুলিশ বিভাগ এবং সেবা প্রদানকারী যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, হাসপাতাল সহ অন্যান্য সরকারী অফিসের নিন্মস্তর থেকে মধ্যে পর্যায়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বাড়ী, গাড়ী অঢেল অর্থ, নাম-ধাম সব কিছুই আকাশ চুম্বী।
  • ব্যাংক-বীমা, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন, বেসরকারী হাসপাতাল সবকিছুকেই তারা সেবার বদলে বাণিজ্যিকরণ করে নিয়েছে । মোট কথা যে মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য শোষিত সমাজের বঞ্চনা থেকে উদ্ধারের জন্য একজন স্বপ্ন-দ্রষ্টার যে স্বপ্ন ছিল তার যৎসামান্যই বাস্তবায়িত হয়েছে। মূলত অসৎ আমলা, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, নৈতিকতাহীন ব্যবসায়ীরা হয়েছে লাভবান এবং তাদের সৃষ্ট নব প্রজন্মের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে সমাজ। সৎ আমলা, রাজনীতিবিদ আর ব্যবসায়ীরা সেখানে বড়ই অসহায়।

আত্নপক্ষ সমর্থনঃ কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কোন গোষ্ঠী বা শ্রেণীকে হেয় করার উদ্দেশ্য এই সামাজিক অনুসন্ধানটি পরিচালিত হয়নি ।

Comments (0)
Add Comment