আমাদের রাজনীতি
রাজনীতি করাই ভালো। একজন নেতা হয়ে বড় বড় বতৃতা দিতে পারলে একদিকে জনগণেরও বাহবা পাওয়া যাবে অপরদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারের বিরুদ্ধে গালিগালাজ কওে গলা ভেঙে রাতে সরকারের দাওয়াতে আদা-চা খেয়ে সেই সরকারের মন্ত্রী হওয়াও ভাগ্যে জুটবে। এই ব্যবাসাই ভাল। ধনু শেখের পোলা পুলিশের গাড়ির নিচে পড়–ক, না হয় পারান বেপারীর ছেলে গুলি খাক, তাতে আমার কি আসে যায়! গোল্লায় যাকগে দেশটা, রাস্তাঘাটের সমস্যায় আমার কোন সমস্যা নেই। আমি চাই বড় নেতা হতে, আমি চাই ক্ষমতা, তাতে যা হয় হোক। টোকাইর হাতে বোমা আর পোস্টার দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দিতে তো আর অসুবিধা নেই। আমার আদরের সন্তান তো নিরাপদেই আছে ।আর বাপের নাম, স্বামীর নাম যখন যুগ যুগ ভাঙানো যায় তখন আর অসুবিধা কি! ভুখা বাঙালি অন্ন চায় দেব বস্ত্র চায় দেব চিকিৎসার সুবিধা দেব। উলঙ্গ রাখব না। বাপ না পায় ছেলে পাবে, ছেলে না পায় নাতিপুতি পাবে, সংগ্রাম আমি চালিয়ে যাবই। একটা বিড়ি আর দশটা টাকা পেলে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে বাঙালি পাওয়া যায়, তাতে মিছিল-মিটিংয়ের তো আর অসুবিধা নেই। নির্বাচনের সময় খুনি-ডাকাত, মাসলম্যান আর দাউ-কাচি যখন আছে তখন ভোটেরইবা চিন্তা কিসের । নেতা মরে গেলে কোন অসুবিধা নেই। বছরে একবার পূজা-অর্চনা হৈ চৈ মাইক বাজানো আর পত্রিকাওয়ালারা যখন খবর দিয়ে পাতা ভরাতে চায়, তখন লম্বা লম্বা বিবৃতি দিতে অসুবিধা কোথায়। দেশ আর জনগন থাকুক আর নাই থাকুক. আমার ক্ষমতা, ফেসভেল্যু আর বিদেশী প্রভুরা খুশি থাকলেই হলো।বতৃতা দেয়ার মানমসল্লা তো অনেকই আছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অথচ মদ বিক্রির লাইসেন্স দেয়া হয়, পতিতাবৃত্তির অনুমতি দেয়া হয়, ব্যাংকে সুদ ঘোষনা দিয়েই দেয়া-নেয়া হয়। এসব হারাম কারবার আমাদের মুসলমানদের মধ্যে যখন আছে, ঘুষ খেতেও যখন অসুবিধা নেই, মজুদধারী আর কালোবাজারি যখন দেদারছে চলছে, তখন প্রকাশ্য ময়দানে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার জনগণের সামনে কয়েকটি লাউড স্পীকারের মাধ্যমে তা জানানো আমার অসুবিধা কোথায়! সরকার যদি জেলে নেয় তবে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতি আরও পাকাপোক্ত হবে। মাস বা বছর পওে ফলের মালা নিয়ে জেল থেকে বেরুনো যাবে। জীবনে বহুবার কারাবাস করেছি, তাইতো এত বড় নেতা। জনগণের জন্যে সরকারের নির্যাতন সহ্য করেছি-এটাই তো আমার পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড। লেকের পাড়ে অট্রালিকায় বসে হাওয়া খাওয়া, দেশে বিদেশে সম্মান, দাওয়াত সংবর্ধনা এতো জীবন ভরে পাওয়া যাাবে। মন্ত্রীত্ব বা ক্ষমতা নাই-বা পেলাম। আমার সন্তানদের তো মানুষে বলবে তারা ছলিমদ্দির সন্তান। নামেই তো চলবে দুই-এক পুরুষ। এটা কি আমার কম পাওয়া? তা ছাড়া বড় বড় সম্মেলনের সময় সরকার চাচার কাছে থেকে যে চাঁদা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে তো অনেক কিছুই করতে পারব । দিনে মাঠে ময়দানে যেখানেই থাকি, রাতের খবর কি বোকা জনগণ রাখে। ব্যবসাটা খারাপ কি? বাপ-দাদা যখন করেছে আমি করব।পরবর্তীতে বংশের মধ্যে একজন করলেই তো হল। এটা তো আমার জাত ব্যবসা। একি আর ত্যাগ করা যায়? ইস্যু একভাবে তৈরি হয়ই। সরকার ভাল কিছু করে জনগনকে যতই শান্তিতে রাখার চেষ্টা করুক, আমি জনগনকে শান্তিতে থাকতে দেব না। অন্তত যখন কেউ না আসুক, বস্তির লোক, আর পাস করার পর যারা বেকার চাকুরি পায় নাই তারা তো আসবে আমার দলে! অনেক দিন রাজনীতি করলাম এখন একটু বিশ্রাম দরকার।