একদিন বাজারে গেলাম
প্রথমেই মুরগীর বাজারে গেলাম। দেখলাম মুরগীকে হাঁ করিয়ে ইটের কুঁড়ি গিলাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কী ভাই মুরগীটি কি ইট খায়? দোকানদার জবাব দিল, এইড্যা স্যার আপনারা বুঝবেন না। মুরগী হাতে দিলে তো স্যার ওজন না লাগলে কিনবেন না, তাই ওজন বানাচ্ছি। খুব ভালো, বলে চলে আসলাম মাংসের দোকানে । এসে এক কেজিত মাংস কিনলাম, হাতে নিয়ে ওজন কম মনে হলো। কাাঁচা বাজারে গিয়ে ওজন করিয়ে দেখলাম ২০০ গ্রামই কম। ফিরে গিয়ে বললাম, পুনরায় ওজন কওে এক টুকরো দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে দিল। কথাটা এক বন্ধুকে বললে, সে যা বলল তা আরও ভয়াবহ। পাঁচ কেজি মাংস কেনার মাত্র পাঁচ মিনিট পর চার কেজি হয়েছে। যা-হোক এরপর তরকারি কিনতে গেলাম। কিছু পটল কিনে বাসায় ফিরলাম। আমার স্ত্রী পটল কাটতে গিয়ে বলল ভিতরে পানি। চাপ দিয়ে দেললাম আসলেই পানি। পরে জানলাম সিরিঞ্জ পোটলের ভিতরে পানি ঢুকায়। হলুদের মধ্যে ইটের গুড়া, দারুচিনিতে অন্যগাছের ছাল, সয়াবিনে পাম অয়েল, গরুর দুধের কথা বলে পাউডার আর পানি মিশানো ছাড়াও ওজনে কম-এসব এখন আর অপরাধ নয় বলেই তারা মনে করে। ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেয়া, দাম বেশি রাখ্ইা যেন এখন ব্যবসা। এটা যে বেশি করতে পারে সেই তত বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী। অনেক দোকানে দেখা যায় খাঁটি ঘি, খাঁটি গরুর দুধ ইত্যাদি পাওয়া যায়। অর্থাৎ এসবের মধ্যে ভেজাল যে আছে তা স্বীকৃত। আর এটা এখন নতুন কিছু নয়। সর্বত্র ঠকানোর প্রবণতা। ঠকানোও যেন আজকাল কৃতিত্ব। লোহার দাঁড়িপাল্লার নিচে চুম্বক লাগানোর মত দোকানিও অনেক আছে আমাদের বাজারে। আসল জিনিসের কথা বলে নকল জিনিস বিক্রি করে অধিক মুনাফা, নিত্যপ্রয়োতজনীয় জিনিসপত্র মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করাসহ খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগের জন্ম দেওয়ার হোতা অনেক ব্যবসায়ী আমাদের সমাজে আছে। তারা শুধু চায় টাকা। যেভাবেই হোক অধিক মুনাফা চাই। জীবন রক্ষাকারী ঔষধ নকল করে হলেও। চারশ টাকার প্লেকার্ড লুঙ্গী কিনে তা রেয়নের হয়ে যায় বাসায় নিয়ে এসেই। রাতে কাপড় কিনে সকালে তিনতালি, আর পাকা রং কিনে করেক দিনের মধ্যে রং ওঠে সাদা বা অন্য রং হওয়ার কথা শহর আর গ্রামবাংলার সবারই জানা আছে। বিষয়গুলো ক্ষুদ্র, কিন্তু যারা এভাবে মানুষ হয়ে মানুষকে ঠকাচ্ছে তারাও মানুষ এবং তারও মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান। সবাই ধর্মে বিশ্বাসী সম্প্রদায়, নাস্তিক নয়। যা-হোক, বাজারের আরও অনেক কার্যকলাপ আছে, যা অনেকেরই জানা। শুধু উল্লিখিত খুটিনাটি ব্যাপারগুলোই আমার চোখে পড়েছে। আর আমার মত একটা চুনোপুঁটির পক্ষে এই সাধারণ ব্যাপার ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, যা বিশেষ ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়, তা জানা সম্ভব নয়।
ক্ষুদ্র এ অমানবিক ব্যাপারগুলো যা আইনের চোখে অপরাধ, ধর্মের দৃষ্টিতে পাপ এর জন্য কি শাস্তি বা কোন ব্যবস্থা আমরা নিতে পেরেছি? সেটাই হলো বড় কথা।