নৈতিকতায় অনৈতিকতা
নৈতিকতাপূর্ণ পেশাগুলো বাণিজ্যিকিকরণ হচ্ছে চরম অনৈতিকভাবে। আজ আর শিক্ষকতা, ডাক্তারী, সাংবাদিকতা আর উকালতির মত পেশাগুলোর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ নেই। আর থাকবেই বা কি করে। শিক্ষক যদি ছাত্রী ধর্ষণের মত চরম ধৃষ্টতা আর নৈতিকতা বর্জিত কাজ করতে পারে। স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রী মনোযোগ সহকাওে না পড়ায়ে ট্উিশনি নিয়ে অর্থ রোজগারে ব্যস্ত থাকে। কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথেও তাদের জড়িত হতে দেখা যায়।
ডাক্তার সাহেবরাও হাসপাতালে বিনা পয়সাঃয রোগীদেও সেবা দেয়ার চেয়ে বেশি মনোেিযাগী হচ্ছে নিজের প্রাইভেট চেম্বার বাা প্রাইভেট ক্লিনিকে উচ্চমূল্যে সেবা দিতে। সেবার চেয়ে অর্থ রোজগারই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। তাদের এই অপেশাদারী কর্মকান্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিক ওথ শপথেরও পরিপন্থী। প্রয়োজনবিহীন ঔষধ লিখে দিচ্ছে শুধু ঔষধ কোম্পানীর থেকে কমিশনের লোভে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেও রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা থাকা সত্ত্বেও রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে প্যাথলজী ল্যাবরেটরীতে, শুধু কমিশন বাণিজ্যের জন্য। প্রয়োজন না থাকলেও শুধু মোটা অর্থের জন্য অপারেশনের পরামর্শ দেয়। আমি নিজেও এরকম পরামর্শের শিকার হয়েছিলাম এদেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের দ্বারা। ভাগ্যিস আমি তার এই সুপরামর্শ গ্রহণ করিনি এবং অদ্যাবধি অপারেশনের প্রয়োজনও হয়নি।
উকিল সাহেবদেও কথা বলতে ভয়ই হয়। কারণ আবার কিনা মান-হানির মামলায় জেলে যেতে হয়। মিথ্যা ছাড়া অধিকাংশ মামলা হয় না। মামলায় কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে না আইনের সে ব্যাখ্যা জেনেও মকেক্কলকে মামলার পরামর্শ দেন। কারণ শুধু অর্থ বাণিজ্য। তাছাড়া তাদের রাজনৈতিক লেবাসও বিশাল শক্তিধররুপে প্রতিভাত হয়। অনেক জেলে থাকা মক্কেলকে ছাড়িয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সুন্দরী স্ত্রী ইজ্জত হরণের নজিরও এদেশে আছে।
সাংবাদিক ভাইদের বিরুদ্ধে বলতে আরও বেশি ভয় হয়, কারণ তারা খুবই সাংঘাতিক। তাদেও কলমের ধার তলোয়ারের চেয়েও বেশি। অসত্য সংবাদ আর পক্ষ-পাতিত্বের সংবাদ পরিবেশনের কারণে অনেকের জীবন অনেক সময় দুর্বিসহ হয়ে য়ায়। কখনও ঐ সব সংবাদিকদের সর্বোচ্চ আদালতে আবার করজোড়ে মাফও চাইতে দেখা যায়।
আমরা নাকাল জনগন। এই সব পেশাদারীদের কাছে বড়ই অসহায়। একটি জাতির নৈতিক পেশাদারদের চরিত্র যদি এরকম হয়, তবে সে জাতির মুক্তি কোথায়। অবশ্য এসব পেশাদার সবাই যে এরকম অনৈতিকতায় জড়িত তা আমি বলছি না, তবে এদের অনেকেই।