সরকারি হাসপাতাল

0 3,181

হাসপাতালে ভীষণ ভীড়। দু-একজন ছাড়া সবাই আমার মত নিুবিত্ত। স্লিপ নিয়ে আমার স্ত্রী ভিতরে ঢুকেই বেরিয়ে আসল। জিজ্ঞাসা করলাম, এত তাড়াতাড়ি? ডাক্তার তোমাকে দেখল না। আমার স্ত্রী একটা প্রেসক্রিপসন আমার হাতে দিয়ে বললো, এই ঔষধগুলো খেথে হবে। কোন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করলো না? রোগের কোন কথা জিজ্ঞাসা করেছে? আপনার স্বামী কি করে? তা তুমি কি বললে? বললাম ক্ষুদ্র ব্যবসা। তারপর বললেন, দেখেন হাসপাতালে কোন ঔষধ নেই, এত ভিড়ের মধ্যে আপনার একার ভালোভাবে চেকআপ করাও সম্ভব নয়। তাছাড়া এখানে আসে যাদের কোন উপায় নেই, একবারেই গরিব। আপনার স্বামী যখন ব্যবসা করে, এখানে চিকিৎসায় আপনার হবে না। আপনি আমার ক্লিনিকে আসবেন। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। তিনি আমার স্ত্রীকে অপারেশনও করেছিল। তবে তার হাসপাতালের সহযোগী ডাক্তার অ্যানেসথেসিস্ট, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি এবং পরবর্তী সময়ের কিছু ্ঔষধও তিনি দিয়েছিলেন ঐ হাসপাতালেরই। সম্ভবত শুধুমাত্র রক্ত সরকারি হাসপাতালের ছিল না। আশ্চর্য হলাম এ কারণে যে, একই ডাক্তার হাসপাতালে রোগী দেখার সময় পান না অথচ প্রাইভেট ক্লিনিকে কত সময় পান। হাসপাতালে অপারেশনের সমস্যা অথচ হাসপাতালের অস্ত্রপাতি নিয়ে এসে বাইরের ক্লিনিকে অপারেশন করেন। সরকারি হাসপাতালে ঔষধ নেই অথচ সেই হাসপাতালের ঔষধই বাইরে পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালে রোগীকে সরকারি সুবিধা-বঞ্চিত করে নিজে হচ্ছে লাভবান। এক বন্ধুর থেকে আরও শুনলাম তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে অনেকবার গুরে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেননি। অবশেষে ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি করাতে হয়েছে। তারপর রক্ত আনতে গিয়ে রক্ত পাননি। তবে যিনি রক্ত বিভাগের দায়িত্বে তার কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে রক্ত পেয়েছেন। রক্ত সংগ্রাহক দালালের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়নি। জনৈক উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কারণে আমার আরেক বন্ধু দুই ঘন্টা পরই রক্তের দায়িত্বের কর্মকর্তার মাধ্যমে হাসপাতাল থেকেই রক্ত পেয়েছেন। দুই ঘন্টার আগে রক্ত নেই এবং সহানুভুতির সাথে রক্ত সংগ্রাহক দালালকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন একজন ডাক্তার। এ হলো আমাদের  হাসপাতালের শত ভাগের এক ভাগ বর্ণনা। এছাড়া পেটের মধ্যে গজ, কেচিং, আর ছোট খাটো অস্ত্রপাতি, সুতা ইত্যাদি রেখে সেলাই করার কথা এবং পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় আবিষ্কার-এ ধরনের সংবাদ খবরের কাগজে মাঝে মধ্যেই তো চোখে পড়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.