সুফি তত্ত্ব যা বলে
সৃষ্টির আদিতে মানুষের কোন জাত ছিল না। সমস্ত মানুষই এক সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। মানব জাতির সৃষ্টির পর পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা ও ভৈৗগোলিক কারণে তাদের আচার-আচরণ ও ধমীয় দিক দিয়ে পার্থ্যকের সূচনা হয়। সাদা-কালো, খাটো-লম্বা ইত্যাদিও সূচনাও এ কারণেই। সব মানুষই বিশ্বাস কওে না যে, সৃষ্টিকর্তা আছে। বিভিন্ন জাতি ও বিশ্বাসী মানব সম্প্রদায় বিভিন্ন নামের প্রভুর ইবাদত বা অর্চনা করে থাকে। খাদ্যের মৌলিক উপাদানের কোন পার্থক্য নেই, পার্থক্য শুধুমাত্র গ্রহণের এবং প্রস্তুতির, সৃষ্টিকর্তার বেলায়ও তাই। ঠিক একইভাবে মানবের সৃষ্টি উপাদানে কোন পার্থক্য নেই। ভৌগোলিক কারণে বিকাশের তারতম্য ঘটে। অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। সৃষ্টিতত্ত্বেরও তিনটি দিক-বাহ্যিক, বৈজ্ঞানিক এবং আধ্যাত্মিক। মানুষের ধমীঁয় আচার-অনুষ্ঠানেরও দুইটি দিক-বাহ্যিক এবং আধ্যাত্মিক। তাই ইবাদতকে মৌলিক ইবাদত বা প্রার্থনা বলা যেতে পারে। আমার মতে মৌলিক ইবাদতই শ্রেয়। সৃষ্টিকর্তা দেখেন অন্তরকে, বিশ্বাসবিহীন বাহ্যিক কোন কিছুরই মূল্য তাঁর কাছে নেই। তিনি পছন্দ করেন পবিত্রতা। অপবিত্র কোন কিছুই তিনি গ্রহণ করেন না। সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসতে হলে তার সৃষ্টি মানুষকে ভালোবাসতে হবে। আর ভালবাসার কারণে নির্যাতিত নিষ্পেষিত মানুষকে জালেমের হাত থেকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করতে হবে। ভুখা-নাঙ্গা মানুষকে খাওয়ানোর মাধ্যমেই মনে করতে হবে সৃষ্টিকর্তাকে খাওয়ালাম, যদিও তিনি কোন কিছুই খান না। বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদিও সৃষ্টিকর্তার অধিকার সর্বব্যাপি। মানুষকে জ্ঞানের আলো দেখিয়েই জ্বালাতে হবে খোদার ঘরে বাতি, যদিও তার কোন আলোরই প্রয়োজন নেই । তিনিই আলো দান করেন। মানুষের প্রতি মানুষের এটাই কর্তব্য, জাতি বা ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। প্রয়োজনে মানুষকে জ্ঞান দানের উপলক্ষ হিসেবে কাজ করা যায়। যিনি ভুল পথে চলেছেন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া আপনার কর্তব্য, কিন্তু সংশোধনের দায়িত্ব আপনার নয়। সৃষ্টিকর্তা না চাইলে কেউ সংশোধন হয় না। তাঁর অনুগ্রহে সমস্ত সৃষ্টি জগৎ টিকে আছে। তিনি মানবীয় জৈবিক সমস্ত ব্যাপার হতে দোষমুক্ত। তাই তিনি সৃষ্টিকর্তা। তাঁর কোন অংশীদারও নেই। পৃথিবীর কোন সম্পদেও প্রতিই কোন ব্যক্তি বিশেষের বা জাতি বিশেষের একচ্ছত্র অধিকার নেই। ভোগের অধিকার সবার সমান। কারণ কোন কিছুরই মালিক মানব সম্প্রদায় নয়, সমস্ত বিশ্বের মালিক আল্লাহ। মানুষ শুধু সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত। যদিও সৃষ্টিকর্তার চেয়ে বড় কোন রক্ষকই নেই, মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের সূচনার মূলে এই সম্পদ এবং এর পিছনে কাজ কওে লাভ আর এই লোভের হোতা মানুষের মধ্যে নফস নামক একটা লতিফা। সম্পদের উপর যখন মানুষ একচ্ছত্র অধিকার চায় অন্যকে বঞ্চিত করে তখনই শুরু হয় জুলুম, অত্যাচার, মারামারি, খুন, জখম ইত্যাদি। সম্পদের ওপর মানুষের কোন অধিকার নেই।মানুষ শুধু প্রয়োজন মাফিক ভোগ করার মালিক, এ সত্য মেনে নিলে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহের সূচনাই হতো না। মানুষ মানুষের প্রকৃত বন্ধু নয়। কারণ মানুষ স্বার্থমুক্ত হতে পারে না। আর যেখানে স্বার্থের প্রশ্ন সেখানে প্রকৃত বন্ধুৃ নেই। মানুষের প্রকৃত বন্ধু সৃষ্টিকর্তা, কারণ তার হাতেই মানুষের সবকিছু, ভাল-মন্দের তিনিই মালিক। ইচ্ছা করলেই মানুষ মানসম্মান আর ধনসম্পদের মালিক হতে পারে না। এগুলো দেওয়ার মালিক সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহারের ক্ষমতা মানুষের জ্ঞান বুদ্ধির ওপর অর্পিত। এগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশেষ কওে সুফি তত্ত্বে বিশ্বাসীদের এটাই ভাবনা এবং উপলব্ধি।