উলঙ্গ মানুষ উলঙ্গ পৃথিবী

আবারো বলছি, উলঙ্গ মানুষ! উলঙ্গ পৃথিবী! শুললেও যেন আতকে উঠবে মানব সমাজ। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই ‘মানুষ উলঙ্গ? পৃথিবীও কি উলঙ্গ? মানুষ যদি উলঙ্গ না হতো তবে বস্ত্র পড়তো না, বস্ত্র মানুষের মৌলিক চাহিদাও হতো না। পৃথিবী যদি উলঙ্গ না হতো তবে তৃর্ণলতা গুল্ম আর গাছের পাতা  তাকে ঢেকে রাখত না। মানুষ যদি কাপড় অর্থাৎ বস্ত্র পরিধান না করত তবে আদিম যুগের মতো উলঙ্গ থাকত এবং সব মানুষের সভ্যতা বির্জনে যেতো। একইভাবে তৃর্ণলতা, গুল্ম আর বৃক্ষাদিকে যদি পৃথিবীকে না ঢেকে রাখত তবে পৃথিবীও উলঙ্গ থাকত।

এই যদি হয় মানুষ আর পৃথিবীর চেহারা তাহলে মানুষ আর পৃথিবীর কিসের অহংকার। কথাগুলো নিশ্চয়ই অদ্ভুত মনে হচ্ছে? কিন্তু আসলে অদ্ভুত নয়। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন মানুষ এবং     পৃথিবী প্রকৃত পক্ষেই উলঙ্গ। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উলঙ্গভাবেই উলঙ্গ পৃথিবীতে প্রেরণ করছে, আসলে কি তাই?
আংশিক সত্য হলেও পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ মানুষ পৃথিবীতে উলঙ্গ এসেছে এবং তাঁরা পৃথিবীকে উলঙ্গ করেছে। পৃথিবী প্রকৃত উলঙ্গ ছিল না। আমরা যখন প্রকৃতির স্বাদ নিতে চাই তখন আমাদের উলঙ্গ হতে হয়, যেমন স্ত্রী সহবাসে। যৌন প্রয়েজনে পৃথিবীকে আমরা উলঙ্গ করি না। উলঙ্গ করি ক্ষুণিœ নিবৃত্তের জন্য। আমরা সর্বক্ষেত্রে উলঙ্গ নই বলেই আমাদের সব কিছু বহু মানুষ দেখতে পায় না। আসলে আমরা একে অপর থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কি আমরা লুকিয়ে রাখতে পারি? অবশ্যই না। আবারো পুনরাবৃত্তি করছি-একজন মা, আমাকে বলেছে, “আমি যদি উলঙ্গ না হতাম তবে ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্ম হত কিভাবে”। একজন বাবা আমাকে একই কথা বলেছে। কথাগুলো সত্যি না কাল্পনিক? আসলে একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে আমরা এবং আমাদের পৃথিবী সত্যি উলঙ্গ। আর এ কারণেই আমরা আমাদেরকে নানাভাবে ঢেঁকে রাখি। আমি যখন জন্মগ্রহণ করি তখন উলঙ্গ, মৃত্যুবরণ করার পরও উলঙ্গ। মানুষ মৃত্যুও পর কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়-এটাও কি মিথ্যা? জন্মেও পর আমরা অনেক দিন উলঙ্গ থাকি। ঢেকে রাখতে চাই আমাদেরকে, ঢেকে রাখতে চাই পৃথিবীকে, কিন্তু কিভাবে? অস্ট্রেলিয়ার  ড. বিলমলিসন, ডেভিড হোম গ্রীন এবং জাপানের ফুকোওকা কি এই চিন্তাটাই করেছেন? বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করে দেখেছেন, সবকিছুই গোপনে ঘটে। যেমন স্ত্রী সহবাস, বীজের অঙ্কুরোদগম এবং জীবনের সম্প্রসারণ।
এবার আসা যাক অন্য কথায়, আমরা সৃষ্টিকর্তার সাথে কথা বলি গোপনে। যেমন আমার কি সমস্যা, আমি কি অপরাধ করেছি, কিসের থেকে মাফ চাই ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমরা সব সময় বিশ্বাস না করলেও অন্তত বিপদের সময় সৃষ্টিকর্তার স্মরণ জোরে জোরে করি। মৃত্যু এক সময় ঘনিয়ে আসে এবং এটা চিরসত্য। যেমন মানুষের মৃত্যু আছে। জীবজন্ত ও উদ্ভিদের মৃত্যু আছে। অথচ আমরা সব সময়ই এই চিরসত্যটিকে ভুলে থাকি। বড়ই আশ্চর্য!
আমাদের অস্তিত্ব ক্ষমতার স্থায়িত্ব। এসব কিছু নিয়ে আমরা কখনও চিন্তাও  করি না। অথচ এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবনের জন্য প্রয়োজন। আমরা দু’টি বিষয়কে খুবই প্রাধান্য দেই, সেটা হলো আমাদের খাদ্যের  ক্ষুধা অর্থাৎ আমাদের ক্ষুধা পেলেই খেতে হবে, যা কিছুই খাইনা কেন। আর অপরটি হলো আমাদের  যৌন ক্ষুধা, যখন আমাদের যৌন উত্তেজনা হয় তখন আমরা বৈধ অথবা অবৈধ যে কোন উপায়ে তা নিরসন করতে চাই এবং তা করি। মানুষ, জীব-জন্তু, উদ্ভিদ, গ্রহ-নক্ষত্র সব কিছুই আড়ালে আমরা এটা করি।
আমরা যে মানুষ, অর্থাৎ মানুষ নামের  জীব পৃথিবীতে কিভাবে এল তা-কি একবারও চিন্তা করেছি? আর যদি করেই থাকি তবে তা লেখলাম না কেন? বা বললাম না কেন? পৃথিবী নামক গ্রহে এলাম অপবিত্র জিনিস থেকে, পবিত্রতার দাবি করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলাম, কিন্তু যা কিছু করলাম তা কি সত্যিই পবিত্র? নাকি পবিত্র হওয়ার জন্য?

Comments (0)
Add Comment