পৃথিবীতে অজস্র মতবাদ। সম্ভাবনা এবং সমস্যাও অনেক। কিন্তু এর মধ্যেও মানুষ ও জীবকুল বেঁচে থাকছে। এবিশ্ব ভূ-মন্ডল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হয়তো জীবকুলের অনেকেই টিকে থাকবে। মানুষ এত বুদ্ধিমান এবং এতো বোকা তা কতজন বুঝতে পারছে এর পরিসংখ্যান, আমার জানা নেই। অন্য কারও জানা আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। অনেকেই মনে করে তারা বুদ্ধিমান। কিন্তু যারা বোকা তারা জানে না যে, তারা আদৌ বোকা। কারও সততা আর সরলতার কারণে তারা বোকা বলে এই সমাজে পরিগণিত হয়। আর যারা অসৎ এবং ধূর্ত তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান বলে মনে করে থাকে। ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তার এবং তা টিকিয়ে রাখার জন্য অন্যায় এবং অনধিকার চর্চায় ব্যস্ত। মানুষ আর অন্যান্য জীবকুলের স্বার্থের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা নেই বরং তাদেরকে অবহেলা আর অবজ্ঞার চোখেই দেখে থাকে শক্তিধররা। মানুষের মধ্যে মতবাদ, আদর্শ, ধর্ম-এসব নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে তারা শুধু আত্মতৃপ্তই হয় না পুরস্কৃতও হয়। এখানে সম্মানের মাপকাঠি হলো ক্ষমতা ও বৈভব। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার এটা সমাজে স্বাভাবিক বলেই পরিগণিত হচ্ছে। মানুষ কখনো মনে কওে না যে, বিত্ত-বৈভব আর ক্ষমতা চিরদিনের নয়। আজ সে যা ভোগ করছে অতীতে অন্য কেউ তা ভোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আবার অন্য কেউ তা ভোগ করবে। এ বিষয়ে চিন্তা করার মানুষ সমাজে খুবই নগণ্য। সমস্ত জীবকুলের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী, সমস্ত মানুষ আত্মনির্ভরশীল, এরকম স্বপ্ন কতজনইবা দেখছে। অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করে মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি এটা সমাজে এখন খুবই সাধারণ । অনৈতিক কাজকে অনেকেই আর অনৈতিক বলে মনে করছে না। বরং কাউকে ঠকায়ে বা কারও সাথে প্রতারণা করে অনেকেই মনে করছে তারা বুদ্ধিমান। আর এরকম বুদ্ধিমানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমন একটা নতুন সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হচ্ছে যাদের কাছে নৈতিকতা ও মানবতা বলে কোন শব্দ নেই। তারা শুধু ছুটছে অর্থ-বিত্ত আর সম্মানের পিছনে। যে বংশধর তারা সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তাদের কাচে শুধুই বড় হলো নিজের ভালো, অন্য কারো কি হলো তা নিয়ে ভাবার অবকাশ তাদের নেই। অন্যের ঘাড়ে পা রেখে শুধু উপরে উঠার স্বপ্ন। দেশ, জাতি, আদর্শ এসব শব্দ তাদের কাছে মূল্যহীন।