বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চা বাগানে শ্রমিকদের অবস্থা খুবই করুণ। তারা কখনও চা বাগানের গন্ডি ছেড়ে বাইরে গিয়ে কিছু করার বা শিক্ষা-দীক্ষা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় কিছু হওয়ার সুযোগ পায় না। এমনকি স্বপ্নও দেখে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী সভ্যতার বঞ্চিত দাস হয়েই তারা জীবনযাপন করছে। ‘দিনে কাজ রাতে মদ’ এই হলো তাদের জীবনের স্বাদ । বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের বেলায় এর কোন বালাই নেই। যত অল্প বয়সে বিয়ে হবে, তত তাড়াতাড়ি সন্তান হবে। বাগানে বেশি শ্রমিক পাওয়া যাবে। এই চিন্তা বাগান মালিকদের। ওদের মুক্তির জন্য বা নায্য দাবির জন্য ওদেও সম্প্রদায়ের কোন নেতা নেই। তথাকথিত নেতাজীর মাসোহারা পায় বাগান মালিকদের থেকে, তাই কথা বলার ইচ্ছে নেই তার। রাজনৈতিক নেতাদের মুখে, সাহিত্যিকদের সাহিত্যে, কবিদের কবিতায় ওদের তেমন একটা দেখা যায় না। চায়ের কাপে লাল রংয়ের চায়ে আমার মনে হয় পুষ্টিহীন, অধিকারহীন মুক্তাঙ্গনে বন্দি ঐ অসহায় মানুষের রক্ত। তাই চ পান করা আমার পক্ষে খুবই দুঃসাধ্য। তবু মানুষের আপ্যায়নে নীরবে তা পান করতে হয়।
নিজেদের মজুরী নির্ধারণের ক্ষমতা চা শ্রমিকের নেই। মালিক কর্তৃক যা নির্ধারিত তাই তাদের প্রাপ্য। শুনেছি ব্রিটিশরা নাকি এদের ভারতের ত্রিপুরা ও অন্যান্য স্থান থেকে জোর করে ধওে এন চা শ্রমে নিয়োজিত করেছে। শ্রমের অধিকার না জানা এই শ্রমিকরা কখনও বড় হবার স্বপ্ন দেখে না বলেই আমর মনে হয়েছে। বাগান মালিকরা কতটুকু আন্তরিক এসব শ্রমিকের মৌলিক ও মানবাধিকারের প্রতি, সেখানেও রয়েছে প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও নীরব কারণ এসব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব লোকের চা পান করতে হয়। যা উৎপাদিত হয় ঐসব অধিকার বঞ্চিত সভ্যতায় বন্দি আধুনিক দাস-দাসীদের দ্বারা।ওরা যদি উৎপাদন না কওে তবে বড় কর্তারা চা পাবে কোথায়, চা না হলে তো ওদের চলে না। চা শ্রমিকের অধিকারের কথা তাই নিজেদের স্বার্থের কারণে বলে।