চিন্তা করুন

মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন জীব। জন্মলগ্নে প্রতিটি মানুষই উলঙ্গ এবং সম্পদহীনভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকে। তখন তার কোন ভাষা, লিঙ্গভেদ, জাত বা ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান থাকে না- অর্থাৎ একটা মানব শিশুর শুধু এতটুকু স্বীকৃতি থাকে যে, সে একজন “মানুষ”। মানুষের আচার-আচরণ, জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক অন্যান্য জীব বা প্রাণী থেকে তাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এসব কিছু মানুষ বংশগতভাবে কিছুটা লাভ করে, অবশিষ্টটা পায় পরিবেশ থেকে। বুদ্ধি বিকাশের অনুকূলে আর প্রতিকূল পরিবেশই মানুষের বিবেক বুদ্ধিও বৈষম্য সৃষ্টি করে।
জন্মলগ্নে মানুষ যেভাবে জন্মগ্রহণ করে অর্থাৎ ভাষা, ধর্ম জাতি ইত্যাদিকে যদি মানুষ গৌণ মনে করে এ বিষয়গুলো নিয়ে একে অপরের সাথে বিভেদ সৃষ্টি না করে, তবে মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। এমনকি নারী পুরুষের পার্থক্যও তার কাছে গুরুত্ব বহন করে না। এই বিষয়গুলো বাদ দিয়ে অন্য যে বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয়, তা হলো ‘সম্পদ’। এর মধ্যে রয়েছে ভুমি, প্রযুক্তি, অর্থ ইত্যাদি। এই বিষয় গুলো নিয়েই মানুষ একে অপরের উপর কর্তৃত্ব আর প্রভুত্ব করার প্রয়াস পায়। মানুষ যদি ধর্ম, জাতিভেদ, ভাষা ইত্যাদি বিভেদ সৃষ্টির বিষয়গুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে রেখে সমগ্র মানব জাতিকে একই সম্প্রদায় মনে কওে প্রকৃতির সকল সম্পদে সবার সমান অধিকার মেনে নেয়, যে কোন সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যা সমগ্র মানব সমাজের সমস্যা বলে মনে করে, ভু-খন্ড দখলের বা অধিকারের প্রাধান্য করতে না চায়, মানব আবি®কৃত সকল প্রকার কল্যাণমূলক প্রযুক্তি সমগ্র মানব সমাজের কৃতিত্ব বলে মনে কওে, এর ব্যবহার এবং সুফল সবার জন্য অবারিত ও মুক্তরাখে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যক্তি অধিকারে না রেখে পিছিয়ে পড়গা অভাবগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করে, তাহলে মানব জাতির কাছে আজ যে সমস্যাগুলো সমস্যা বলে চিহিৃত হয়েছে তা আর কোন সমস্যা হিসেবে থাকবে বলে মনে হয় না। এ নিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ আর হানাহানিও বন্ধ হয়ে যাবে অনায়াসে। তখন সমগ্র বিশ্ব হবে এক অনাবিল শান্তিময় পরিবেশ।
মানব সমাজ যদি ভেবে দেখে যে প্রতিটি প্রাণীই কালের সীমায় আবদ্ধ। একদিন তাকে পৃথিবীর সকল সম্পদ রেখে একা এবং নিতান্তই একা সব কিছুর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিতে হবে।
জন্মলগ্নে মানুষ যেমন শূন্য হাতে জন্ম নেয় তেমনি বিদায়ও শূন্য হাতে। তখন পুঞ্জিভূত সম্পদ, ক্ষমতা, কোন কিছুই তার কাজে আসে না। যদি তার মনে হয় সারাজীবন সে মরীচিকার পিছনে ঘুরেছে তা হলে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করণীয় থাকে না। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো চিরন্তন সত্য “মৃত্যু” নামক বিষয়টি তারা ভুলে থাকে অকপটে। পুঁজিতান্ত্রিক দেশে কয়েক কোটি মানুষের বেকারত্ব এবং বছরের পর বছর ধরে দারিদ্র্যের মধ্যে দিন যাপন, কোটি কাঙালের অদৃষ্ট এবং বৈষয়িক ও নৈতিক ট্রাজেডি এ হচ্ছে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিঃস্বতার অশনি সংকেত।

Comments (0)
Add Comment