বর্তমান বিশ্বে পাঁচশ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় তিনশ কোটিই নারী, সেখানে নারী স্বার্থ রক্ষার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কতভাগ নারী, তা কি গণতন্ত্রীকামী আর সমাজতন্ত্রীকামীরাএকবারও ভেবে দেখেছেন? যারা নারী স্বাধীনতার কথা বলছেন তারা কোন দলে? গণতন্ত্রী? জনগণের অংশগ্রহণের কথা আর নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতা, সর্বোপরি মানবাধিকারের ভুয়া বুলি যে নিছক প্রতারণা তা আজ আর বিশ্বের মেহনতি মানুষের বুঝতে ্ একটু বাকি নেই। “বিভক্ত কর এবং শাসন কর” গণতন্ত্রীকামীদের এ নীতি যে, আমলাতান্ত্রিকতা সৃষ্টি করছে তা শাসক আর শাসিতেওে মধ্যে যে বৈরিতা সৃষ্টি করে তা জান সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক ঘৃণ্য উলঙ্গ নৃত্যে ব্যস্ত।
ক্ষমতা আর নেতৃত্বের বিকেন্দ্রিকরণের কথা বলা হলেও, অপরাধ-দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত সমাজ বা ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তারা মোটেও আন্তরিক নয়। তারা যেন মহাকবি ইকবালের সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করছে-দরিদ্রদের উদ্দেশ্য করে, “জীবন যদি পেতে চাও, তবে বেঁচে থাক বাধা-বিপত্তি আর ত্রাসের কোলে।
মানব সভ্যতা টিকে থাকার জন্য যে নৈতিকতার প্রয়োজন সে কথাটি পুঁজিবাদী বিশ্ব ভুলে গেছে অকপটে। আর্থিক সফলতার কারণে তার নৈতিক দিককে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। অথচ মানুষের নৈতিক চরিত্র আর আর্থিক সচ্ছলতা ওতপ্রাতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক অবনতির ফলেই আত্মিক ও নৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মানবজীবনের জন্য আর্থিক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে এ কথা সকলেই স্বীকার করেন। কিন্তু মানবতার উন্নতি ও অবনতির সাথে আর্থিক উন্নতি ও অবনতির যে সম্পর্ক রয়েছে সেদিকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। সে কারনেই হয়তো আজ রাজনীতি দরিদ্র বিশ্বের সার শূন্য হয়ে পড়েছে। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের হাতে জমা করে রাখা এবং দারিদ্র্য নিরসন আর উন্নয়নের কথা সমাজতন্ত্রী গণতন্ত্রীদের যে কত বড় প্রতারণা- তা বোধ হয় আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।