আফিকার গভীর জঙ্গলের কথা না হয় বাদ দিলাম। জঙ্গলের গভীরে যদি একটা জ্যান্ত মানুষ ছেড়ে দিয়ে আসা হয় তবে নিশ্চয়ই সে তার জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজবে। বাঘ, ভাল্লুক, সাপ আরও কত হিংস্র জীবজন্তুর বসবাসও জঙ্গলে। লোকটি যদি জানত তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হিংস্র জন্তুও আস্তানায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য, তাহলে হয়ত সে যেত না, কাকুতি-মিনতি করত না যাওয়ার জন্য। যদি লোকটিকে বলা হত তোমার অপরাধের শাস্তি গভীর বনে নিক্ষেপ অথবা মৃত্যুদন্ড, তাহলে হয়তো সে অগত্যা মৃত্যুদন্ডের থেকে রেহাই পেতে বনের নির্বাসন বেছে নিত নিশ্চিত বিপদ জেনেও।
অর্থাৎ আমরা সহজেই ধরে নিতে পারি যে, বাঘ, ভাল্লুক, আর হিংস্য জন্তুর জন্য বন সুন্দর এবং নিরাপদ হলেও মানুসের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। নিরাপদ বলতে যদি আমারা সাধারণ ভাবে নিরাপত্তা বুঝি, তাহলে মানবকূল ও প্রাণীকুলের জন্য ভিন্নতা আছে। তবে অন্যান্য প্রাণীকুল থেকে মানুষের ভীতি এই বৈজ্ঞানিক যুগে অনেক কম। তাহলে নিরাপদ পৃথিবীর প্রত্যাশা কেন? আর বিশ্ব যখন নিরাপদ নয়, তখন জানার আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক যে, কেন পৃথিবী নিরাপদ নয়। নিরাপদ এবং নিরাপত্তা দুটোকে যদি আলাদা করে দেখি তবে আমরা অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারব যে, নিরাপদ যখনই হবে তখন কোন বিপদ নেই। আর নিরাপত্তা হলো কোন কিছুতে ভীতি বা হুমকি নেই। তাহলে দেখা যাচ্ছে, নিরাপদ এবং নিরাপত্তার মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র আছে।
পৃথিবী কি নিরাপদ? এর উত্তর আসতে পারে বিভিন্ন রকমের । কারণ বিষয়টি আপেক্ষিক। তবে আমাদের মত সাধারণ মানুষ মনে করে পৃথিবী মোটেও নিরাপদ নয়। কেন নিরাপদ নয়? তার উত্তর বোধ হয় অনেকেরই জানা নেই।
যা-ই বলি না কেন, বিপদ, ভীতি , ঝুঁকি আর হুমকি যেখানে বিদ্যমান সেখানে নিরাপত্তা নেই, নিরাপত্তা না থাকার কারণেই পৃথিবী নিরাপদ নয় -এটা এক বাক্যের স্বীকার করতে মানব সম্প্রদায়ের দ্বি-মত থাকার কথা নয়।
একটি পুকুরে বোয়াল, শোল বা অন্য কোন রাক্ষুসে মাছ থাকলে অন্যান্য মাছ খেয়ে ফেলে, অথচ পুকুওে বাস করার অধিকার সব মাছেরই আছে। পুকুর মালিক যদি ভদ্র মাছের চাষ কওে লাভবান হতে চান তবে তাকে অবশ্যই রাক্ষুসে মাছ মেরে ফেলতে হবে, সেটা যেভাবেই হোক। কারণ পুকুরে চাষ করা মাছের জন্য রাক্ষুসে মাছ মোটেও নিরাপদ নয়, এখানে অনেক শ্রেণীর মাছের নিরাপত্তা নেই। মাছের কথা না হয় বাদই দিলাম। কেননা মাছের সাথে মানুষের তুলনা করা ঠিক হবে না, মানুষ মাছ নয়, বুদ্ধি ভিত্তিক প্রাণী বা জীব।