অভাব-অনটনে পড়ে গেলাম। আগের রঙিন বাতির টেবিলের বন্ধুরা আর টেলিফেনও কওে না বাসায়ও আসে না। এরপর ভাবলাম অর্জিত এ অভিজ্ঞতার আলোকে একটা বই লেখি। লিখে ফেললাম। পান্ডুলিপি নিয়ে ছাপানোর জন্যে কয়েকজন প্রকাশকের কাছে গেলাম। তারা অনেকে বলল পান্ডুলিপি পড়ার সময় নেই, সংক্ষেপে বলুন। বলার পর বলল, “এসব কাহিনী আজ-কাল চলে না”, বড় বড় লেখকের বই বিক্রি হয় সের দওে, আর আপনি সাহেব বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন সাহিত্য লিখতে। সাহিত্য কি এত সোজা কথা! টিনএজ লাভ অথবা বেডরুমের কিছু থাকলে তা নিয়ে আসেন। আজ-কাল ইয়ংরা এসব চায়। বুড়ারাও সাহিত্য পড়ে না। বুঝলেন তো লেখক সাহেব? পরে কয়েকজনের পরিচয় নিয়ে জেনেচি, প্রকাশক সাহেবদের অনেকেই এস এসটি পাসও করেননি। এরাই হলেন সাহিত্য নামের একটা শৈল্পিক মাধ্যমের প্রশাসক, যা কিনা বহন কওে একট জাতীয় পরিচয়। যা-হোক আমার লেখা অভিজ্ঞতা নামের উপন্যাসখানা সের দরে বিক্রি না হয়ে উইপোকার পেটে গিয়েছে অনেকদিন পর। প্রকাশনা যেমন ব্যবসা, লেখাও আজ-কাল ব্যবসা এবং আমাদের এই সমাজে সবত্র সবকিছুতেই যে শুধু লাভের প্রশ্ন। কোথায় দেশপ্রেম আর দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই। যে-যার মত পারছে শুধু উপরে উঠছে। যেভাবেই হোক, প্রয়োজনে মাথায় পাঁড়া দিয়ে। যা-হোক শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার আর তেমন আগ্রহ জাগে নাই।