পৃথিবীর নাট্যশালা

ভূ-খন্ড দখল, মানুষকে বাকরুদ্ধ, রক্তশোষণ, শ্রমশোষণ, মতাদর্শ চাপিয়ে দেয়া, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, মুখের অন্ন কেড়ে নেয়া, অধিকার বঞ্চিত করা, মর্যাদা হানি, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন, মানচিত্র ভেঙ্গে ফেলা, এগুলো হলো রাজনৈতিক ব্যাপার। মদ্য পান করে উলঙ্গ নৃত্য, পেটের অন্নের বিনিময়ে ইজ্জত লুণ্ঠন এসব এখন সাধারণ ঘটনা।

একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে নিরীহ নারী-পুরুষ হত্যা, স্বাধীনতাকামী মানুষদের জঙ্গী ও বিদ্রোহী বলা, এক ইশ্বরে ধর্মীয় বিশ্বাসীদের মৌলবাদী আখ্যায়িত করা, ভুখা-ক্রন্দনরত শিশু রেখে মানুষ ধ্বংসের জন্য মারণাস্ত্র তৈরিতে লক্ষ কোটি মুদ্রার অপচয় করা, অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, অধিকার হরণ এসব নিত্য-নৈমিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যাপার। এত কিছু বলার অর্থ হল এ শব্দগুলো মনে করিয়ে দেয়া।

একজন শিক্ষিত মানুষ যখন মনে করে যে, একজন নিরক্ষর মানুষকে সে তার বুদ্ধি দিয়ে ঠকালো, একটি শিক্ষিত জাতি যখন মনে করে যে, তার মেধা দিয়ে তারা অন্য একটি স্বল্প শিক্ষিত সহজ-সরল জাতিকে ঠকালো, আসলে সে তার নিজের সাথেই প্রতারণা করল! জীবনের গভীরে যারা প্রবেশ করেছে, তারা এটাকে সরাসরি প্রতারণা বলেই মনে করে।
একজন মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ কোন না কোন এক জন চতুর মানুষ বা গোষ্ঠি কর্তৃক প্রভাবিত হয় আর এই প্রভাবিত হওয়ার কারণে ওই নিরীহ মানুষগুলোর আসলে কোন উপকার হয় না। তারা শুধু পরিস্থিতির শিকার হয়।

আসলে মানুষ খুবই বোকা পৃথিবীতে এত বোকা প্রাণী আর আছে কিনা আমার জানা নাই। কারণ মানুষ যদি বুঝতে পারত যে, তার জীবন সীমিত, সে অনাদিকাল বেঁচে থাকবে না এবং সে এই জীবন আর ফিরে পাবেও না, তাহলে সে হয়তো তার এই সীমিত জীবনের জন্য কিছু একটি পরিকল্পনার প্রয়োজন অনুধাবন করতো এবং তা জীবনের কল্যাণে, তাহলে হয়তো পৃথিবীর কল্যাণে কিছু একটা করার থাকতো, কিন্তু তা হলো না।
মানুষ তার কৃত কর্মের ফলই ভোগ করে। কিন্তু সে জানে না তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় কি হবে। কারণ পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে সে অজ্ঞাত। মানুষ যদি জানতো শুধু তার জন্যই পৃথিবীর সব কিছুর সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে সে সৃষ্টির অন্য সবকিছু থেকে উপভোগ করতে জানতো। মানুষ আসলেই একটা অকৃতজ্ঞ জাতি। সবই যে তার সেবায় নিয়োজিত তাই অন্য কাউকে সে মর্যাদা দেয় না। আসলে ঐ মানুষটি তার নিজের মর্যাদা সম্পর্কেই অবগত নয় অথবা তা ভুলে যায়। তখন সে বড়ই অসহায়। এই অজ্ঞতার কারণে মানুষ তাঁর নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নয়।

একজন মানুষ যখন কোন পার্থিব সম্পদ অর্জন করে তখন অন্য কেউনা কেউ তা হায়। আসলে কোন মানুষই পার্থিব সম্পদ নিয়ে জন্মায় না। কোন না কোনভাবে সে তা অর্জন করে। আমরা কখনও চিন্তা কার না যে
‘‘আজ আমি যা ভোগ করছি অতীতে অন্য কেউ তা ভোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্য কেউ তা ভোগ করবে’’। অতএব পাওয়ার আনন্দ আর হারাবার বেদনা নিয়ে ক্রন্দন করে লাভ কি?
শ্রী-শ্রী ভগবত গীতার মর্ম বাণী এরকমই।

Comments (0)
Add Comment