বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম

সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য চাই বিপ্লব। কোন আবেদন-নিবেদন আর তোষামোদ কওে কোন সমাজে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার পেয়েছে এমন ইতিহাস নেই। অধিকার সব সময় আদায় করে নিতে হয়। আর তাই বুঝি শিশু জন্ম নিয়েই চিৎকার করে তার অধিকারের কথা জানিয়ে দেয়। মানব প্রভুরা সংখ্যায় কম হলেও সমাজের বৃহত্তর অংশ সাধারণ মানুষকে তারা সুকৌশলে শোষণ করে থাকে। তারা শুধু নিজেদের ভোগ-বিলাস আর আরাম-আয়েশের কথাই চিন্তা করে । রক্তচোষা যেমন অন্যের রক্ত চুষে আত্মতৃপ্তি বোধ কওে, তেমনি শোষকরা মানুষকে শোষণ করে  আনন্দ পায়। শোষকের কুকুর ঘি-মাংশ খায়, আর  গরিবেরা ভাত পায় না। এই সমাজে অনেক কুকুরের খাওয়া-থাকার নিশ্চয়তা থাকলেও অনেক আদম-সন্তানের নেই। কুকুর বাড়ির বিশ্বস্ত পাহারাদার, আর অনেক বুর্জাযাদের বাড়ির ফ্যাশন হলেও এ সমাজের অনেক ভুখা-নাঙ্গা মানুষ ওদের কাছে বিরক্তির কারণ। ভাসমান ঐ মানষগুলো রাস্তার পাশে বস্তি বানিয়ে তিলোত্তমার সৌন্দর্য নষ্ট করছে। মানুষ হয়েছে ওদের কাছে আবর্জনা। আর ঘৃণিত কুকুর  হয়েছে আদরের। বলুন আসলেই কি ওরা মানুষ! আদি মানুষ! সৃষ্টি আদিতে মানূষ যেমন উলঙ্গ এসেবছিল এই পৃথিাবীতে তেমনি আবার উলঙ্গ হতে চলেছে দিন দিন। হয়েছেও অনেকে। সবাই তো উলঙ্গ হয়েই জন্ম নেয়। কারও ভাগ্যে জুটেছে গরদ-জামদানি আর কেউ এখনও উলঙ্গ।
সার্ভেন্ট বা চাকর শব্দটি কারও অজানা নয়। এক শিশু বইতে সারভেন্ট শব্দটি দেখে তার অফিসার পিতাকে জিজ্ঞাসা করল “আব্বু সার্ভেন্ট অর্থ ডশ?” শিক্ষিত উচ্চতপদস্থ অফিসারা পিতা জবাব দিলেন সার্ভেন্ট মানে চাকর! শিশুটি পাল্টা প্রশ্ন করলো-চাকর কেমন? অফিসার সাহেব বললেন, আওে বোকা ছেলে, মফিজকে দেখিস না? ঐ তো আমাদের চাকর। শিশু বলল, তাহলে তুমি চাকর হও না কেন? অফিসার বাচ্চাকে ধমক দিল। শিশু চুপ হয়ে গেল। অফিসার বললেন, তিনিও একজন পাবলিক সার্ভেন্ট। আসলো পাবলিকের কাজ না করলে কি আর পাবলিক সার্ভেন্ট হওয়া যায়? মিথ্যা না বলে তিনি ভালোই করেছেন। অন্তত আর যা-ই হোক, সত্যবাদী তো রয়ে গেলেন।
পাবলিক সার্ভেন্ট আর এখন পাবলিক সার্ভেন্ট নেই। আমি আগেই বলেছি, সবাই অফিসার আর সরকারের লোক। সরকারের বেতন খান জতনগণের কিছু না করলে কি আসে যায়? জনগনের জন্যে তো জনপ্রতিনিধিরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে খাদেম সেজে বসে আছেন। কতইনা তাদের দেশপ্রেম? তা না হলে টাকা খরচ করে তারা জনগণের খেদমত করতে চায়? শুুৃধু কি টাকা খরচই করেন? না, টাকায় যদি জনসমর্থন না পান তবে জোর-জবরদস্তি করে নিজেরাই ভোট কেন্দ্র দখল করে নিজেরাই দিয়ে নেন। অস্ত্র দিয়ে হোক, লাঠি দিয়ে হোক, গোলা-বারুদ খরচ হোক, জনমনের খাদেম তাদের  হতেই হবে এবং হয়েও যান তারা। ভীত-সন্ত্রস্ত জনগণ শুধু নীরব দর্শক।

Comments (0)
Add Comment