বাক স্বাধীনতা বুর্জোয়া গণতন্ত্র

“স্বাধীন চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সংবিধান বিরুদ্ধ ক্রিয়াকলাপ গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী জার্মানির উইলি ব্যান্ডের এই উক্তিতেই বুঝা যায়, ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কর্তৃক বিরোধীদের রাজনৈতিক দমনের চিত্র। শাসকগোষ্ঠি, বিচারক আর পুলিশের বিরুদ্ধে কোন কথা বললে সেটা সত্য হলেও তাকে রাষ্ট্র ও তার সমালোটনাকারী হিসেবে চিহিৃত করে নির্যাতন করার ইতিহাস সবারই জানা।
সকল সমালোচনা ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারীকে সমাজের জন্য বিপদজনক আখ্যা দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বা নির্যাতনমূলক আইনে কারারুদ্ধ করার ঘটনাও গণতান্ত্রিক দেশে  বলবৎ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এদেরকে অবাঞ্চিত ব্যক্তি বলে ঘোষণা করা হয়। তথাকথিত গণতান্ত্রিক স্বাধীন বিশ্বে বিপ্লবী চেতানার অনেক লোককে দমনের উদ্দেশ্যে কালাকানুন বলকৎ আছে। আর এর শিকার হয়ে অনেক বিপ্লবী যুগ যুগ ধরে রয়েছেন কারারুদ্ধ। সুদীর্ঘ  বছর ধরে প্রচলিত  এই বুর্জোয়া “গণতন্ত্র প্রস্তুত করে এসছে অসন্তুষ্ট ব্যক্তিদের  সাথে সংগ্রাম এবং     ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের অসংখ্যা উপায়। যেমনটি করে এসেছে সমাজতন্ত্রকামী কমিউনিস্ট শাসিত রাষ্ট্রগুলো।
বুর্জোয়া-গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সামাজিক ও জাতীয় অসমতা: বুর্জোয়া গণতন্ত্র গড়ে তোলে বর্ণ বিদ্বেষী ও ফ্যাসিস্ট মনোভাব। তাছাড়া তীব্রতম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে পুঁজিতান্ত্রিক দেশগুলোর শাসকমহল অধিক স্বক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছে জাতীয় শক্রতার আগুন জ্বালাতে এবং তা তারা করছে এই আশায় যে, এর ফলে নিজ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম দুর্বল হয়ে পড়বে মেহনতিদের ঐক্য। আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে এখনও রয়েছে অন্যান্য জাতি ও রাষ্ট্রের ব্যাপাওে হস্তক্ষেপের অসংখ্য সূক্ষ্ম এবং সেই সঙ্গে জঘন্য পদ্ধতি। রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎকোচ দিয়ে বশে আনা, রাজনৈকিতক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা সংস্থার চটচটে মাকড়সার জাল নির্মাণ, ফ্যাসিস্ট অভ্যূত্থান ঘটানো ও তার জন্য অর্থ যোগান নিয়মিত কর্মসিূচি। অস্ত্রশস্ত্র আর ভাড়াটে সৈনিক দিতে জাতি বিরোধী প্রতিবিপ্লবী শক্তিকে সহায়তা করা এবং এর জন্য তারা যে কোন নোংরা পদ্ধতির আশ্রয় নিতে দ্বিধাবোধ করে না। তাদের অনুরুপে পদ্ধতির মধ্যে আছে কুৎসা, প্রতারণা, ইতিহাস মিথ্যাকরণ, বিদ্বেষপূর্ণ ভূল সংবাদ প্রচার। এসব কুকর্মেও সহায়তাকারী অনেক দেশেরই জ্ঞানী, গুণী ও তথা কথিত জাতীয় বুদ্ধিজীবি।
সমাজতন্ত্রী ও গণতন্ত্রী এরা সবাই নিজেদেরকে ‘মঙ্গলময়ের দল’ বলে দাবি করে থাকে। মানব সভ্যতার কতটুকু মঙ্গল তার করেছে, তা আজ ভেবে দেখার সময় এসছে। একদিকে কোটি কোটি টন খাদ্য মজুদ খাদ্য দিয়ে বিলাসিতার জন্য জ্বালানী তৈরী, মানুষের খাদ্য দিয়ে পশু-পাখির খাদ্য বানানো হচ্ছে। অপরদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের আহাজারী। ক্ষুধার্ত শিশুর কংকালসার চেহারা অপরদিকে মারণাস্ত্র তৈরির জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা মঙ্গলময়ের দলের আসল উদ্দেশ্য বিশ্ব মানবতার সামনে পরিষ্কার করে দিচ্ছে। আর তারা যদি সত্যিই মঙ্গল করে থাকে তাহলে বিশ্ব আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি কেন? দরিদ্র বিশ্বকে অনুৎপাদনশীল খাতে দেয়া ঋণের সুদ এবং দরিদ্র বিশ্বে তাদের রফতানি বাণিজ্যের মুনাফা দিয়ে ধনী বিশ্বের বিলাসবহুল জীবনযাপন, যার ফলে ধুঁকে ধুঁকে মরছে দরিদ্র বিশ্বের ভুখা মানুষগুলো। বহুজাতিক কোম্পানীগুলো সুকৌশলে লুটে নিচ্ছে মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দল সৃষ্টির মাধ্যমে একদিকে তারা করছে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট, বিপ্লবী চেতনা ধ্বংস, মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির জন্ম দিচ্ছে দ্বি-জাতি ও ত্রি-জাতি তত্ত্ব। দরিদ্ররা সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল বলে ধনীদের আজ্ঞাবহ। সে কারণে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে তথাকথিত গণতন্ত্রের বেড়াজালে ধনিক শ্রেনীকেই তারা ভোট দিয়ে নেতা নির্বচন করে, এতে করে ধনীদের স্বার্থ রক্ষিত হয়: দরিদ্ররা থাকে অবহেলিত আর বঞ্চিত । অপরদিকে সংখ্যালঘিষ্টদের মতামতের কোন মূল্য থাকে না।

Comments (0)
Add Comment