সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বেকার ভাতাকে পুঁজিপতি বিশ্ব যেমন বলে থাকে ভিক্ষা, তেমনি পুঁজিপতি বিশ্বের বুর্জোয়া অর্থনীতিকে সমাজতন্ত্রীরা বৈষম্যমূলক অর্থনীতি বলে আখ্যায়িত করে। কমিউনিস্ট পার্টিও ২৫তম কংগ্রেসে লিওনিদ ব্রেজনেভ বলেছিলেন, “আমরা গড়েছি নতুন সমাজ”, এরুপ সমাজের কথা ইতঃপূবে মানব জাতির জানা ছিল না। এটা সংকটহীন ও অবিরাম বিকাশমান অর্থনীতির বিকশিত সমাজতান্ত্রিক সম্পর্কের এবং প্রকৃত স্বাধীনতার সমাজ। আর আজ গর্বাচেভ ও ইয়েলেৎসিন বললেন অন্য কথা। তাদের এই অর্থনৈতিক ও সম্পর্কেও বন্টন ব্যবস্থার গ্লানির চরম সংকট থেকে সোভিয়েত জনগণকে উদ্ধারের জন্য ‘প্রেসত্রয়কা’ নাম দিয়ে শুরু করেছিলাম ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি। তারা দেরিতে হলেও নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন। অবশ্য ‘তত্ত্ব সঠিক ছিল প্রয়োগ ভুল হয়েছে, না বলে আমরা ভুল স্বীকার করেছি ’ বললে আরও সঠিক হতো।
একইভাবে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার নামে, মানুষের আত্বনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার অযুহাতে পুঁজিবাদী বিশ্বেও এক সময়ের কর্ণধার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ নিজেদের অভিশাপকে বিশ্বেও কাছে আড়াল করার জন্য এবং নিজ দেশের জনগণের দৃষ্টি জাতীয় অর্থনীতি থেকে ভিন্ন দিকে ফেরানোর লক্ষ্যে ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার’ নামে শুরু করেছিলাম মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসন।
সমাজতন্ত্রের নামে নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের নামে অর্থোপার্জনের স্বাধীনতা এর কোনটিই মানব সভ্যতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেনি। তারা বিশাল সেনাবাহিনী ও ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তিতে অর্থ যোগান দিতে আজ হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বাব্যপি এই সমাজতন্ত্রী আর গনতন্ত্রীরাই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে যেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রশস্ত্রেও বিস্তার ঘটিয়ে পরস্পরকে যুদ্ধ-বিগ্রহে প্ররোচিত করেছে।
ঋণের পাহাড় সমান বোঝা মাথায় নিয়ে আজ এই বৃহৎ মার্কিন ও সোভিয়েট রাষ্ট্র দিশেহারা। সম্পদে সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে তাই আজ কৌশলে তারা করায়ত্ব করে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ফায়দা লুটছে। বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র দেশে যখন মানুষ অনাহারে মরছে তখন মধ্যপাচ্য কিনছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র । তারা আরবীয় ্ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি আর সংস্কৃতি ভেঙ্গে দেবার নেশায় মত্ত।
বুর্জোয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মেহনতি মানুষের মঙ্গলের পরিবর্তে মালিকের মুনাফাই মুখ্য বিষয়। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাফল্য আজ শ্রম সহজীকরণ ও মানবীকরণের পরিবর্তে সভ্যতা ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমাজতন্ত্রের শ্লোগান আজ পরিণত হচ্ছে মিথ্যায়। বেঁচে থাকার জন্য কঠিন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে মেহনতি মানুষ।
শ্রম স্বাধীনতার পরিবর্তে শ্রমে বাধ্য-বাধকতা আরোপিত হয় সমাজতান্ত্রিক দেশে। অপরদিকে তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় “সমান দুযোগ-সুবিধার সমাজ” সার্বজনীন গণতন্ত্রের সমাজ এই ভূয়া বুলি প্রচারিত হলেও সেখানে সামাজিক অসতা শুধু সীমিতই করে না, গরিব ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা লাভের সম্ভাবনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকেও পঙ্গু করে রাখে। সারা বিশ্বেও গড় বেকারত্বের তুলনায় আমেরিকার তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্বেও পরিমান বর্তমানে দ্বিগুণ-বেশি এবং তা কোন আপত্তিকর ব্যাপার নয়। এরুপ সামাজিক পরিস্থিতির একটা প্রধান কারণ হচ্ছে বহু যুবক-যুবতীরা বিশেষ করে গরিব পরিবারের সন্তানদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাব। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক দানশীলতার উপর নির্ভরশীল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ আজ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লক্ষ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে।