মানুষ যদি নিজেকে চিনতো অর্থাৎ তাঁর মানবসত্ত্বা সম্পর্কে অবগত হতে পারতো তাহলে তাঁদের লোভ-লালসা-পারস্পারিক হিংসা-বিদ্ধেষ-ইর্ষা-দন্ধ-বিগ্রহ-কলহ-বিবাদ-যুদ্ধ-লড়াই কোন কিছুই মানব সমাজে থাকতো না এবং তারা কলঙ্কিত হতোনা। ধন-সম্পদ যে স্থায়ী নয় তা মোটেও তাঁদের চিন্তায় নেই।
মানুষের চিন্তার জগতে শুধু লোভ আর ভয় এবং সংশয়। মানুষের হিসেবে রাত দিন, মাস বছর মহাকালের কাছে তা যৎসামান্য। মহাসমুদ্রের কাছে তা এক ফোটা জল মাত্র। মানুষ কখনো নিজেকে নিয়ে ভাবনা ভাব শুধু অন্যকে নিয়ে। যত্ন নেয় শুধু সেই দেহকে যা তাঁর বাহন নশ্বর অয়বব মাত্র। অর্জিত সেই দেহ যে একদিন যা থেকে গঠিত হয়েছে, সেখানে মিশে যাবে সেকথাও মানুষ ভাবে না। ভাববার সময়ই বা কোথায়? ভাবনা তো শুধু পাবার আর হারাবার। যারা পাওয়া না পাওয়া থেকে মুক্ত হতে পেরেছে তারাই মানব সত্ত্বার স্বাদ পেয়েছে। মোহে আবদ্ধ মানব সমাজ যেদিন মোহমুক্ত হবে সেইদিন তারা শুধু মানব নয় মহা মানবে উন্নীত হবে।
আমরা মানুষ রূপে যারা আবির্ভুত তাঁদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কেও অবগত নই।
জন্মের পর যা কিছু তারা দেখে শুনে তা থেকেই জ্ঞান অর্জন করে। দেখা আর শুনার জ্ঞান কি সত্যি না মিথ্যা তা নিয়ে তারা কখনও ভাবেনা, ভাবনার জগত ভরে থাকে শুধু দেখা আর শুনার। নিজের চিন্তা-চেতনাকেই তারা মনে করে উত্তম এবং তা চাপিয়ে দিতে চায় অন্যের উপর। একটা সাধারন উদাহরণ হলো, একজন মানুষ স্বপ্ন দেখে তাঁর সন্তান কি হবে, ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারী অফিসার বা বড় ব্যবসায়ী অর্থাৎ তাঁর সন্তানের স্বপ্ন সে রচনা করে, সন্তানের কোন নিজস্ব স্বপ্ন রচনা করতে দেয় না। অথচ এ বিষয়ে তাঁর কোনও অধিকার নেই। এটা মানব স্বীকৃত অধিকারের বাইরে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি অধিকার।
পৃথিবীর বা প্রকৃতির কোন কিছুর উপরেই মানুষের কোনও অধিকার নেই, সে সম্পর্কে তারা অবগত নয় অথবা জানার বা বোঝার চেস্টাও কখনও করেনি। আমরা শুধু প্রকৃতির সব কিছু অধিকার করার চেস্টা করছি, নিজেরা কিছু সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করছি না। যা কিছু আবিষ্কার করছি তাতে আমাদের কোনও কৃতিত্ব নেই। আমাদের অর্জিত জ্ঞান সবই অন্যের, আমাদের নিজস্ব কিছুই নেই।
আমরা মানুষ যা চর্চা করি তা অন্যের থেকে ধার বা চুরি করা। এরকম ধার আর চুরি চলছে সৃষ্টির আদি থেকে। আমরা কোনকিছুতে উৎফুল্ল বা ব্যথিতই, কেন হই? তা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক নামধারীরা আজও সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে নাই। ব্যাখ্যা দেবেই বা কিভাবে, তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা নেই তারা সব সময় তাঁদের মনগড়া ব্যাখাই দিয়ে থাকে। বৃক্ষ যে শুধুই বৃক্ষ নয়, পশু-পাখী যে শুধুই পশু-পাখী নয়, জীব জন্তু যে শুধুই জীব জন্তু নয়, মানুষ যে শুধুই মানুষ নয় তা এরা কেউই অবগত নয়।
আমরা যা কিছু দেখি শুনি ও জানি আমাদের চিন্তা সেখানেই সীমাবদ্ধ এর বাইরে আমরা কখনও চিন্তা করিনা। কারন চিন্তার জগত ইতিমধ্যেই পরিপুর্ন হয়ে গেছে সেখানে আর কোন চিন্তা ভাবনা ঢুকবে না। আমরা সবাই নিজের গন্ডির মধ্যেই বসবসাস করি এবং সেই গন্ডির মধ্যেই আমাদের চিন্তা সীমাবদ্ধ। চিড়িয়াখানার জীবজন্তুর জগত যেমন চিড়িয়াখানার খাঁচার মধ্যেই আমাদের চিন্তাভাবনাও তেমনি আমাদের গন্ডির মধ্যে।
প্রকৃতিতে মানবের চেয়ে অমানবের সংখ্যায় বেশী। শুধু বেশীই নয় অতিবেশী। তাই কল্যাণের কোন কাজ করতে হলে অকল্যাণীরা বাধা দেবে সম্মিলিতভাবে। তাই অতিক্রম করে কল্যাণের দিকেই অগ্রসর হতে হবে। উদাহরণ হলোঃ- ১০০ জনের মধ্যে ৯৯জন যদি হয় অকল্যাণকারী তবে কল্যাণকারী হবে বড়ই অসহায়।
প্রকৃতির আত্নপ্রকাশঃ প্রকৃতি যখন প্রকাশিত হয়েছে তখন সকল কিছুকে নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রকাশিতরা অন্যকে ধ্বংস করেছি সৃষ্টি করেনি কিছু এই হলো আমাদের চরিত্র কারন আমরা বুদ্ধি বৃত্তিতে বড় দেখতে বড় না হলেও। কে বিশ্বাস করলো আর না করলো তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমিও অন্যদের মতো বলতে চাই আমার চিন্তা সত্য না হলেও আমার কাছে সত্য কারন আমি সব কিছু থেকে মুক্ত!