ছাত্রাবস্থায় একবার আর্থিক দৈন্যতার কারণে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম “অভিভাবক চাই” অনেক বড় বড় লোক চিঠি লিখেছিলেন আশ্রয় দেয়ার জন।অনেক চিঠির মধ্যে একটি চিঠিতে সরাসরি লেখা ছিল এরকম।“কন্যাকে বিবাহের শর্তে আপনাকে পিতামাতার আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে”। এর শর্তটিই হলো একটি স্বার্থ। অবশ্যই কোথাও শর্তেও মাধ্যমে আমরা অভিভবক পাওয়ার আশাটি বিলীন হয়ে গেছে এমনিতেই। সাহায্যের মধ্যে শর্ত, সহায়তার মধ্যে বিনিময় এটা এখন আর নতুন কিছু নয়। কলেজ ছেড়ে যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে গেলাম তখন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কর্মীরা এসে দলে ভিড়ানোর কত চেষ্টা করল। দলে ভিড়লে হ’লে সিট পাওয়া যাবে, নাহলে কোন ব্যবস্থা নাই।
আমার মত হাজার হতভাগা বাপের অন্ন ধ্বংস করে অবশেষে কোনমতে পৌছেছে এ পর্যন্ত। কষ্টক্লেশ কওে ভর্তি হয়েই জড়িয়ে পড়ল কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে অথবা শুরু করল প্রেম। পড়ালেখা ছেড়ে মিছিল-মিটিং আর পার্কে বসে গল্প গুজব করে কাটিয়ে দিল চার-পাঁচটি বছর। পরীক্ষা দেওয়ার নামে খবর নেই, পাস আর চাকরি তো দুরের কথা। এভাবে ধ্বংস করল মূল্যবান সময়। গ্রামে বাবা-মা আশায় বুক বেঁধে আছে। ছেলে একদিন চাকরি করবে, সংসারে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে, রক্ত পানি করা হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জন দিয়ে পড়ালেখা করানো সন্তান মানুষের মত মানুষ হবে। হঠাৎ একদিন দেখা গেল মৃত লাশ হয়ে ফিরে এলো তার সন্তানটি। আবার গ্রামে কি হয়েছে? গুলি বা বোমায় নিহত! সব আশা ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। নেতারা পত্রিকায় লম্বা লম্বা বিবৃতি দিলেন, বড়জোর গ্রামে গিয়ে সান্ত্বনা দিলেন তার বাবা-মাকে। অথচ এ দেশের পরিবেশ ভালো নয় বিধায় এই নেতারাই নিজেদেও সন্তানদেরকে বিদেশে পাঠিয়েছে পড়ালেখা শেখাতে। আর গ্রাম বাংল থেকে আগত সহজ-সরল ছেলেগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে অস্ত্র। নিজেদেও সন্তানরা নিরাপদে আছে আর চিন্তা কি? মরবে অন্যের সন্তান, আর মৃত্যুর পর সেই লাশ নিয়ে মিছিল-মিটিং করে আরও সুবিধ হবে, ক্ষতি কি? এরকম দুই-চারজন লাশ না হলে রাজনীতি কি চাঙ্গা হয়। যা-হোক সে কথা বলে লাভভ নেই, অবশিষ্ট ভালো ছেলেগুলো যারা ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয় হয় তাদের ভাগ্যে আর যা-হোক একজন সুন্দরী ললনা তো জুটবেই।পড়ালেখা শেষ কওে সুন্দরী ললনাকো নিয়ে শহওে সুখে শান্তিতে একটা নীড় গড়ে তোলে, গ্রামের অশিক্ষিত আনকালচারড় মা-বাবার খবর রাখার আর প্রয়োজন হয় না। বছরে দু’একবার কিছু নিয়ে গিয়ে কার্টেসি রক্ষা কওে আসই শুধু দায়িত্ব মনে করে। বাবা-মার অবদান আর তখন তেমন গুরুত্ব পায় না। নিজের সংসার, বন্ধু-বান্ধ, অতিরিক্ত হলে শ্বাশুরি আর শহরের আত্মীয়-স্বজন।