অর্থনীতি ও বিভিন্ন মতবাদ
উলঙ্গ নৃত্য করছে; আর দোষ দিচ্ছে সৃষ্টিকর্তা বা ভগ্য বিধতার।
দরিদ্র জাতিগুলোর কোন লোক যদি ভাগ্যক্রমে সুযোগ-সুবিধা পায় তবে সেও আতœকেন্দ্রিক চিন্তা নিয়ে নিজের মঙ্গলের জন্যই কাজ করে। অথচ একবারও ভেবে দেখে না যে, জাতিকে নিদারুণ অবস্থার মেিখ ফেলে রেখে একা নিজের মঙ্গল সাধন করা অমানুষিকতা ও কাপুরুষতা ছাড়া আর কি হতে পারে? যে জাতির সব সাধারণ মানুষ লাঞ্চনা, গঞ্জনা, দীনতা ও হীনতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে, সে জাতির ে কানা লোক যদি দৈবক্রমে সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয় তাতে লাভ কি? স্বার্থপরতা যে কোন জাতির বড়দোষ এবং জাতীয় অবমাননা ও সভ্য না হওয়ার সর্ব প্রথম কারণ। প্রত্যেকেরই জাতীয় প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে যে, স্বার্থপরতা জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। আজ দরিদ্র বিশ্বে এই স্বার্থপরতা চরম আকার ধারণ করছে। মানব ইতিহাসের সূচনা কাল থেকে সব সময়্্ই দুটি মতবাদ কার্যকর রয়েছে-একটি ন্যায়ানুগ ব্যবস্থার মতবাদ, অপরটি পুঁজিবাদ ব্যবস্থার মতবাদ। প্রথম মতবাদের দাবি হলো, ”পৃথিবীতে এমন একটি ব্যবস্থা কায়েম হবে যাতে বড় বড় কোটিপতি থাকবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবন ধারা গড়ে উঠবে মধ্যমতীঁ অবস্থায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সবাই জীবনোপকরণ পাবে, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথ সবার জন্য মুক্ত থাকবে।
দ্বিতীয মতবাদের দাবী হলো “পৃথিবীর এই কারখানার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃতি মানব জাতিকে দুভাবে ভাগ করেছেন। এক ভাগ প্রভুত্ব আর কর্তৃত্ব করার জন্যে সুষ্টি করা হয়েছে আর এক ভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে দাসত্ব আর আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করার জন্য। অনুরুপভাবে প্রকৃতির অভিপ্রায় হলো, কোন কোন মানব গোষ্ঠী সম্পদের স্থায়ী ইজারাদার হবে। বৈধ-অবৈধ পন্থায় ধন সম্পদ উপার্জন করবে এবং এই প্রাচুর্য শুধু নিজেদের ভোগবিলাসের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখবে। পক্ষাšতরে কোন কোন শ্রেণী গরিব, অভাবী ও ভিখেরি দু’মুঠো খাবারের জন্য সব সময় অসহায় এবং ঘৃণিত থাকবে। মানুষের জীবন ব্যবস্থার এই গগনচুম্বী বৈষম্যকে মধপন্থায় আনার কারও অধিকার নেই’’।
তাদের এই মতবাদের কার্যকর সফলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হল মহাজনী সুদ। এই সুদ শালীন-অশালীন পস্থায় মানুষের রক্ত চুষে খায়। ছোট একটি দলকে বিপুল ধন সম্পদের অধিকারী করে। এই ব্যবস্থা মানব জাতির মধ্যে একজনকে অপরের দাসত্বে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। মোট কথা অভিশপ্ত পুঁজিবাদের জন্য সুদ সব সময়ই পৃষ্ঠপোষকের ভুমিকা পালন করে। গণতন্ত্রেও ছদ্মবরণে মানুষ পারস্পারিক সহযোগিতা ও প্রেম প্রীতি পরিত্যাগ কওে রক্তপিপাসু হিংস্র জন্তুর মতো এক অপরের রক্ত চোষার জন্য উদ্যত হচ্ছে।