অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা

0 3,236

বিশ্বের বিভিন্ন জাতির মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্ব আজ সম্পদ হারানোর ভীতির মধ্যে বসবাস করছে। এর জন্য বিপুল ব্যয়ে গঠন করছে সীমান্ত রক্ষী, আর তৈরি করছে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র। মানব সম্পদ রক্ষা আর উন্নয়নের চেয়ে পুঁজিবাদী বিশ্ব সম্পদ রক্ষার জন্য বেশি তৎপর । কিন্তু মানব সম্পদ রক্ষা আর উন্নয়ন ছাড়া যে, বস্ত্র সম্পদের রক্ষা সম্ভব নয়, তা তারা মোটেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন না। যে বস্তু সম্পদ মানুষের কল্যাণের জন্য নয়, বরং মানব সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা বিশ্ব সভ্যতা একদিন অবশ্যই অনুধাবন করতে পারবে।
পুঁজিবাদী বিশ্ব তাদের ধর্ম বিশ্বাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি সব কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে তাদেও অধীনস্থ বা সাহয্যপ্রার্থী দেশগুলোর উপর। তার সমগ্র বিশ্বের প্রভু আর ভাগ্য নিয়ন্তা সাজার আকাক্সক্ষায় সৃষ্টি করছে এক ব্যাপক অভিযান এরই নাম দেয় হয়েছে “নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা”। নতুন এই বিশ্ব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য তার মারণস্ত্রের পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে সে ঘাটতি পূরণের জন্য কুৎসিত ভল্লুকের মত সুকৌশলে দরিদ্র বিশ্ব আর মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশের সম্পদ হরণের জন্য থাবা প্রসারিত করে এগিয়ে আসছে। তারা শীত, বসন্ত, মরু-ঝড় এসব নাম দিয়ে সম্পদশালী দেশে গনতন্ত্র কায়েমের নামে অস্ত্রের জোরে নিরাপরাধ মানুষ মেরেও সম্পদ দখল করছে প্রতিনিয়ত।
পুঁজিবাদী বিশ্বের বিলাসিতা আর অবাধ যৌনচারের ফসল মরণব্যাধি এইডসের আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপি। আধুনিকায়নের নামে মানব সমাজকে পশুর চরিত্রে চরিত্রবান করছে তারা, তাদেরকে আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারক-বাহক মনে করছি, যারা আজ তথাকথিত উন্নত সভ্যতার দাবিদার । তাদের সাহায্য-সহযোগিতার পেছনে মনোভাব নিয়েও দরিদ্র জাতির আজ ভেবে দেখার সময় এসেছে। উন্নত বিশ্বের কোন প্রযুক্তি যদি আশির্বাদ না হয়ে দরিদ্র বিশ্বেও জন্য অভিশাপ হয় তবে দরিদ্র বিশ্বের সংখ্যা গরিষ্ঠ মেহনতি আর শোষিত মানুষের বিকল্প চিন্তা ছাড়া উপায় নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.