পুঁজিবাদীদের সমাজ ব্যবস্থা

0 3,181

পুঁজিবাদী বিশ্বের গড়া সমাজ ব্যবস্থা, যা অর্থনীতিকে ভয়াবহ অবস্থার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরিবর্তে কোন ন্যায়-নীতি ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপর্ণ দায়িত্ব হলো গণবিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল প্রচলিত গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের শোষণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিন্নভিন্ন করা। কিন্তু সম-শক্তিতে বলিয়ান সে সব রাষ্ট্র অব্যবস্থা কি ভেঙ্গে দেয়া সম্ভব? যদি সম্ভব না হয় তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়টি ভেবে দেখা হয়তো অসমীচীন হবে না।
মানুষ মানুষের প্রভু নয়, মানুষের মতামতের উপর গণতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক সরকারের কোন অধিকার নেই। প্রতিটি মানুষই জন্নগতভাবে স্বাধীন জীব। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ধন সম্পদ দিয়েই মানুষের বা রাষ্ট্রের মর্যাদা নিরুপন করা হয়। কিন্তু ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের সম্মান ও মর্যাদা নিরুপনের সঠিক মাপকাঠি যে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের সৎকর্ম ও  মানবকল্যাণ সে কথাটি পুঁজিবাদী বন্ধুরা বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। একসময় মাথাপিছু আয় দিয়ে উন্নয়নের মাপকাঠি বিচার করা হত। আজ তার পরিবর্তে মানুষের  জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চরম দারিদ্র্যের কারণেই শ্রেণী সংগ্রামের সুত্রপাত হয়, তাই পুঁজিবাদী বন্ধুরা একদিকে শ্রেণী সংগ্রাম ঠেকাতে ব্যস্ত অপরদিকে দরিদ্র উন্নয়নকামী জতিগুলোর জাতীয় উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য জাতিতে জাতিতে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অমিমাংসিত বিষয়গুলো জিইয়ে রেখে দ্বৈত ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। কবির ভাষায় “বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট”।
বিশ্বের কৃষক সমাজের দুরাবস্থা কবি হৃদয়কেও আন্দোলিত করেছিল, তাই নজরুল লিখেছেন-
উঠরে চাষী, জগতবাসী, ধর কষে লাঙ্গল
আমরা মরতে আছি
ভালো করেই মরবো এবার চল।
আজ জাগরে কিষাণ
সবতো গেছে কিসের আবার ভয়
এই ক্ষুধার জোরেই করব এবার ক্ষুধার জগত জয়।
ঐ বিশ্ব জয়ী দস্যু রাজার হরকে করব নর
ওরে দেখবে এবার জগতবাসী চাষার কত বল।
উঠরে চাষী জগতবাসী ধর কষে লাঙ্গল।
জনসংখ্যা বৃদ্ধিও অজুহাতে সম্পদের স্বল্পতা প্রমাণ করানো যাবে না, কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে উৎপাদনও বেড়েছে সমান্তরালভাবে।তাছাড়া সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্ট জীবের জন্য সেই পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রীই প্র¯ত্তত রেখেছেন, যা তাদের জন্য প্রয়োজন হবে। মানুষকে শুধু অনুসন্ধান করে তা আবিষ্কার করতে হয়। ধর্মীয় এ বিধানকে মানুষ মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে পারছে না। কিন্তু একথা আজ মানব সমাজকে স্বীকার না উপায় নেই যে, বন্টন ব্যবস্থার অভাবেই যত বৈষম্য আর অভাব অনটন। একজনের হাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আর একজনের সম্পদের অভাবে ন্যূনতম মানবিক প্রয়োজন মিটানোও দুরুহ হয়ে পড়েছে। অথচ সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির অজুহাত নিছক প্রতারণারই নামান্তর।
আজ দরিদ্র বিশ্ব বলে পরিচিত অধিকাংশ দেশেই ছিল অজস্য সম্পদ । শতাব্দীর পর শতাব্দী উপনিবেশের কারণে সে সব সম্পদ লুটে নিয়েছে উপনিবেশিক শক্তিগুলো। জাতীয় উন্নয়ন আর স্বাধীন চিন্তাভাবনার কোন অবকাশ পায়নি তারা, শূন্য ঘর ফেলে রেখে আজ তার াআছেমহাসুখে। মেহনতি মানুষের সম্পদ লাুটে নিয়ে যে অস্ত্র তারা তৈরি করেছে, সে অস্ত্র দিয়েই তারা দরিদ্র জাতিকে করছে পদদলিত।
উপনিবেশকানীর সময়ে শোসকরা উপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোর শিক্ষা-দীক্ষা আর শিল্প র্সস্কৃতির কোন চিন্তা করেনি। আক্ষরিক অর্থে আজ দরিদ্র জাতিগুলোর স্বাধীনতা হলেও প্রকৃত স্বাধীনতা আজও অর্জিত হয়নি। তারা আজ ধনী রাষ্ট্রগুলোর উপর নির্ভরশীল। মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন। দরিদ্র জাতিগুলো পরাধীন এই যে, কোন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা কখনই অর্জিত হয় না।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.