ভন্ড নায়ক

0 3,308

যারা সিনেমা বা নাটক বানায়, সাহিত্য রচনা করে বা কবিতা লেখে তাদের একটা না একটা উপজীব্য থাকা চাই। উপজীব্য ছাড়া তো কোন সাহিত্য, কবিতা বা সিনেমা হয় না । আমরা যদি দেখি তবে এর অধিকাংশই শুধু সমস্যা নিয়ে, কোন সমাধানে সেখানে চোখে পড়ে না। বিশ্বে তারাই বনেণ্য হয়, বরেণ্য যারা করে তাদের কাছে যদি সে মনোপুত হয়। আরও অনেকে বরেণ্য বা পুরস্কৃত হয়, যারা ঐসব বরেণ্যকারীদের পক্ষে কথা কয়। মানুষ যে এত স্বার্থপর হয়, মানুষ যে এত কিছু এত সহজে ভুলে যায়, মানুষ যে অতীত ইতিহাসের দিকে তাকায় না, তা আমি রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপলব্ধি করতে পারি। এটাই আমার মানুষ হিসেবে বড় পরিচয়। আবারো আমি বলতে চাই, হয়তো মানুষ বড় উদার, না হলে বড় অসহায় অথবা বড় স্বার্থপর ও অকৃতজ্ঞ। যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন মানুষ উদার? আমি বলবো, তারা আসলে উদার নয়-উদার করছে তাদের ভিতরের মানুসিক গুণাবলী। যে উদারতা তারা নিয়ে এসেছে স্বর্গ থেকে। স্বর্গ বলতে আমি বুঝাতে চাই যে, মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে তখন সে শুধু তার অবয়ব নিয়ে আসে। আর পৃথিবীতে এসে সে অনেক কিছু অর্জন করে। এই অর্জন আসলে নানাভাবে হয়, তা শুধু ঐ মানুষই জানে, প্রকৃত অর্থেই জানে। অন্যেরা শুধুমাত্র ধারণা করে।
মানুষের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা এবং অবিশ্বাস-এটাতো একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টির আদি থেকে এর প্রকাশ। কিন্তু কেন এই আস্থাহীনতা আর অবিশ্বাস সৃস্টি হলো, তা নিয়ে বৈজ্হানিকরা যতটা গবেষণা করেছে তার ছেয়ে সহস্রগুণ বেশি গবেষণা করেছে এক সম্প্রদায়ে অন সম্প্রদায়কে বিবাবে ধ্বংস করতে অথবা শোষণ করতে পাওে তা নিয়ে। মানুষে মানুষে এই যে অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা আর ব্যবধান তা কেন সৃষ্টি হলো এ নিয়ে কারও কোন চিন্তা নেই বলেই আমার মনে হয়। কবিতা, রচনা বা সাহিত্য লেখা এগুলোর প্রতি আমার তেমন কোন আগ্রহ কখনও ছিলনা, কিন্তু আমি যখন দেখলাম এ বিষয় নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কোন কথাই বলছে না তখন আমার মনে হলো বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পুর্ণ এবং এ বিষয়ে আমার কিছু লেখা দরকার। কে কিভাবে নিলো, কিংবা কে তুষ্ট হলো বা অখুশী হলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না, আমার বাক্-স্বাধীনতা আছে, আমি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত স্বার্থেও কারণে লিখছি না। তখন মনে হলো আমি কিছু লিখি। আসলে এজন্যই আমার এ লেখা। অন্যথায় আমার এ লেখার দরকার ছিল না।
ধরুন যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হলো। কিন্তু কি নিয়ে? ভু-খন্ড, মতবাদ, বিত্ত-বৈভব বা ক্ষমতা-কিন্ত কেন? এর কোন কিছুইতো চিরস্থায়ী নয়। তাহলে কেন এই ধ্বংসযজ্ঞ কেউ কেউ বলছেন, এগুলোর দরকার আছে। এজন্যই যে, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র। ন্যায়-বিচার কি একজন নিরীহ নারী-পুরুষ বা শিশুকে হত্যা করা? না হয় মেনে নিলাম ঐ অধিকর্তার ইচ্ছায় ন্যায়-বিচার বা গণতন্ত্রের জন্য, কিন্তু সুবিচার পেলো কারা। পালতারিয়েতরা? না, ধনিক আর বনিক শ্রেণীই কেন শ্রণী-সংগ্রাম এর জন্ম দিল? মানুষ যদি ন্যয়-বিচার থেকে বঞ্চিত না হতো, তাদের ন্যায্য অধিকার যদি প্রতিষ্ঠা হতো, তাহলে কি শ্রেণী-সংগ্রামের জন্ম হতো? এটা কি মতবাদ সৃষ্টিকারীরা বুঝলোনা?
আমরা মানুষ। যাদেরকে মানুষ বলে মনে করি বা স্বীকৃতি দেই তারা কি আসলেই শ্রেষ্ঠ মানুষ? তখন প্রশ্ন আসে শ্রেষ্ঠত্বের সংজ্ঞা কি? এই সংজ্ঞাটি কে বা কারা সৃষ্টি করেছে? বড়ই অদ্ভুত আমরা এই মানব সম্প্রদায়। স্বার্থের বাইরে  আমরা যেন কিছুই বুঝি না। আমি ছাড়া আর  কাউকেই যেন আমার মত করে বুঝি না। আর যদি ভাবি তাহলে কেন যেন প্রতারিত হই অথবা ঠকাই, কিন্তু কেন? এর উত্তর হলো, একজন ভালো মানুষ মনে করে তার আশে পাশের সব মানুষই তার মত ভালো। আর একজন খারাপ মানুষ মনে করে তার আশে পাশের সব মানুষই তার মত খারাপ। সে নিজেকে মনে করে সে বড় উত্তম মানুষ। যারা বিশ্বাসী, কিভাবে বিশ্বাসী? যেমন যে মনে করে কেউ না কেউ আছে যার সুপার পাওয়ার আছে এবং যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সে জানে না তিনি কে এবং কেন তার এই সুপার পাওয়ার? মানুষ তার নিজের আঙ্গিক থেকে চিন্তা করে তিনিও আমার মতই অবয়বের একজন, কিন্তু আসলে তা নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.