কৃষক

0 3,188

আমরা কৃষক
করে খাই কৃষিকাজ,
শহরে বন্দরে যেতে
লাগে বড় লাজ।

সুন্দর পোশাক নেই
হাতে নেই ঘড়ি
থাকি পাতার ঘরে
নেই পাকা বাড়ি।

গায়ে ভিষণ ময়লা
চলি খোলামেলা
বর্ষার বৃষ্টিতে, চৈত্রের রোদে
ঠান্ডা আর গরমে হয় যত জ্বালা।

দিনভর খাটুনি
নেই খেলাধুলা
অভাবের তাড়নায়
জ্বলেনাকো চুলা।

সহায় সম্বল যদিও
নেই গোলা ভরা,
আতœীয়স্বজন সবার প্রতি
ভালোবাসা প্রাণঢালা।

আনন্দের জন্য কোন পার্ক নেই
সেখানে ফলাই ফসল
পাড়ে বসে হাওয়া খেতে লেক নেই
সেখানে রাখি সেচের জল।

প্রকৃতির সাথে লড়তে লড়তে
হয়ে গেছি হীনবল
জমিজমা সব হারিয়ে
চিরতরে দুর্বল।

আমাদের ছেলেমেয়েরা
পায়ে জুতা ছাড়াই হাঁটে
ছোট থাকতেই কাজ শেখাতে
নিয়ে যাই তাই মাঠে।

মেয়েরা কেউ আরবী পড়ে
বিয়ে দেই বয়স না হতে,
বড় হয়ে পাড়ায় গেলে
বদনাম হয় না যাতে।

মেয়ের বিয়েতে কাঁচাফুল নেই
নেই সাজানো গাড়ি,
পাল্কি জোটে না অনেক সময়
হেঁটে যায় শ্বশুরবাড়ি।

কাক-পক্ষী ডাকার আগে
চলে যাই মোরা মাঠে,
রমণীরা মোদের তখনি উঠে
বাসি নিয়ে যায় ঘাটে।

সকাল সকাল নাশ্তা পাঠায়ে
বসে থাকে আঙ্গিনায়
ধনী কৃষক বধূ বা কেউ
বসে গিয়ে জানালায়।

সারা বছর শ্রমের পর
ফসল যখন আসে
ভুলে যাই সব শ্রমের কথা
সুখের নেশায় মেতে।

জমি-জমা নিয়ে হয়
বড়লোক মাতবর
শহরমুখী হই মোরা
হয়ে যাই যাযাবর।

কৃষক বধূর হাতে এখন
নেই চালুন-ডালা
খেজুর পাটি বুনানি নেই
নেই চটের ছালা।

শাপলা শালুক নেই তোরে ভাই
নেইকো পুঁথির গাঁথা
ছইবাঁধা নৌকা নেই
নেইকো নক্শি কাঁথা।

যে বছর বন্যায় ডুবে
অথবা খড়ায় পুড়ে
অভাব তখন নেমে আসে
সারাটি গ্রাম জুড়ে।

জমি-জমা বেচি কেউ
কেউবা হালের গরু
কেউবা ছাড়ি ঘরের বউ
বিধবা হয় বরু।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.