সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষের ধর্মের প্রতি রয়েছে বিশ্বাস এবং দুর্বলতা। ধর্মীয় বিধি-বিধানের দ্বারাই মানুষের নৈতিক চরিত্র নিয়ন্ত্রিত হয়। এই নিয়ন্ত্রণের ফলেই মানুষ সামাজিক অনাচার থেকে নিরাপদ থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম-নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও মূলত সেখানে থাকে ধর্ম পালনের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ফলে মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দূরে সরে
নাস্তিকতায় উন্নীত হয়- কারণ সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা লেলিন ধর্মকে আফিম, ভাঙ আর গাঁজার নেশার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি কোন ঐশ্বরিক বিধানে বিশ্বাসী ছিলেন বলে জানা যায় না।
অপরদিকে গণতন্তীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধার সৃষ্টি না করলেও সেখানে সাম্প্রদায়িকতার বিষ লুকিয়ে আছে। সমাজে সকল মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসও এক নয়। আলাদা আলাদা ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ফলে স্বাভাবতই সৃষ্টি হয়েছে। জাতিভেদ। সৃষ্টির ধ্বংসাবধি এ জাতিভেদ দূর করা সম্ভব হবে কিনা তাও সন্দেহ। ভারত উপমহাদেশে মহামতি আকবর একজাতি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিলেন। বিভিন্ন সম্প্রদায়েরর মধ্যে মত ও আন্তরিকতা বজায় থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় চেতনাবোধের বিলুপ্তি ঘটেনি। মহামতি আকবরের এই ব্যর্থতায় এটাও প্রমাণিত হয় যে, ধর্মীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বা ধর্মের নির্দেশ খোঁজ না করে নিছক সামাজিক ও জাতীয় মঙ্গল সাধনের উদ্দেশ্যে কোন জনহিতকর কাজ সম্পন্ন করা অজ্ঞ ও অসচেতন জনসাধারণের পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়।

Comments (0)
Add Comment