অর্থনীতি ও বিভিন্ন মতবাদ

0 3,392

মহাজনরা কৃষকদেও ঋনের নামে সুদে টাকা দিয়ে তাদের উপার্জিত পণ্য সামগী হস্তগত করে। নামমাত্র মূল্যে পণ্য সমগ্রী খরিদ কওে গুদামজাত কওে এবং দাম উঠানামার মালিক বনে বসে। এভাবেই তারা সম্পদ কুক্ষিগত কওে থাকে। মহাজনদেও এ কাজের দরুন কৃষক ও জনসাধারণ অত্যন্ত হয়রানী হয়। কোন কোন সময় চরম আর্থিক দুরাবস্থার শিকার হয়ে থাকে। আর এর খারাপ পরিণতি উপমহাদেশের বাসিন্দাদেও সামনে অত্যন্ত স্পষ্পটরুপে বিদ্যমান।

মহানবী প্রথার মতো নব্য মহাজনী প্রথাই চালু করেছে বর্তমান বিশ্বেও ব্যংকিং ব্যবস্থা। একদিকে অর্থ জমাকারী  বিনা পরিশ্রমে শুধুৃ ব্যংকে তার অর্থ জমা রেখেই মুনাফা নামের মোটা অংকের সুদ পায়, অপরদিকে ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহন করে। গ্রহীতারা বাধ্য হয়ে অধিক সুদ প্রদান করে থাকে। মহাজনী কারবারের চেয়ে পুঁজিবাদীদেও সৃষ্টি করা এই লেনদেন ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ। মহাজনরা ধার দিয়ে সুদ ভোগ কওে একা আর ব্যংকিং ব্যবস্থায় ক্ষেত্র বিশেষ এমনভাবে সুদ ধার্য করা হয় যে, আমানতকারীকে ব্যাংক যে সুদ দেয় ঋণ গ্রহীতাদের থেকে তার চেয়ে অনেক বেশি সুদ আদায় করে থাকে। আমানতকারীর সাথে সাথে ঐ প্রতিষ্ঠান ও লাভবান হয়। দ্বি-মুখী এই অর্থনৈতিক শোষনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঋন গ্রহীতারা।
বিশ্বেও মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি অংশ নারী। নারীদের কর্মশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের গতিধারা আরও দ্রুত প্রসারের লক্ষ্যে তথাকথিত দাতা দেশগুলো দরিদ্র বিশ্বেও নারীদেরকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে শরীক করার জন্য আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সর্মসূচি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে কিছু উন্নয়ন নামক প্রতিষ্ঠান। এ সব প্রতিষ্ঠান থেকে দরিদ্র মহিলারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা কওে থাকে। দেখা গেছে, তারা এই অর্থ ব্যবহার বওে যা আয় কওে তার সিংহধভগই চলে যায় উন্নয়ন সংস্থার হাতে। ফলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে এরা লাভবান হলেও আসলে তারা মোটেও লাভবান হয় না। আর তারা যদি সত্যিকারভাবে লাভবানই হতো তবে দিন দিন দরিদ্র দেশের ভুমিহীন ও বিত্তহীনের সংখ্যা এতো অধিক হাওে বৃদ্ধি পেতো না।
ঁবস্তু সম্পদ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের শেষে পর্যায়ে পৌছোর পর ধনী বিশ্বদাতা নামে মানব সম্পদ নিয়ে ব্যবসায় নেমেছে। আর এর নাম দিয়েছে সামাজিক ব্যবসা। শিল্প কারখানার শ্রমিকদের শ্রম শোষণের পর সমাজের নিুস্তরের (গ্রাস রুট লেভেল) মানুষের শ্রমও আজ তারা কৌশলে চুরি করছে।
এভাবে তাদের শোষণ আজ সমাজের রন্দ্রে ক্যান্সারের মত ঢুকে পড়ে ধ্বংস করেছে সাধারণ মানুষকে। দরিদ্রদেও সম্পদ না থাকায় তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋন সুবিধা না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয় এসব বেসরকারি আর্থিক ও তথকডত সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে। ঋণের টাকা ফেরত দিতে তারা বাধ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনও আর্থিক ক্ষতির কারণে তাদেও কাছে ঋণ মাফ হওয়ার প্রশ্ন নেই। এমনভাবে সিস্টেম বা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে যে, গ্রহীতারাই খেলাফি গ্রহীতার ঋণ জোর জবরদস্তি আদায় করে দেয়। প্রতিষ্ঠানের লোকদেও কাবুলিওয়ালার ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। খেলাফি ঋণের সাথে চক্র বৃদ্ধি সুদও জুড়ে দেয় তারা। অথচ লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষের সঞ্চয়ই অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান পুঁজি।

দরিদ্রদেও অর্থ দিয়েই কৌশলে তারা দরিদ্রকে শোষণ করছে। এ কথাটি দরিদ্র বিশ্বেও অর্থনীতিবিদরা একবারও ভেবে দেখছেন না। ঋন সুবিধা পাওয়ার জন্য দরিদ্রদেরকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত কওে জাতীয় ঐক ও চেতনাকে বিনষ্ট করাও পুঁজিবাদী বিশ্বেও ফমূঁলা। সামাজিক দল নাম দিয়ে বিভিন্ন দল গঠন করা হলেও এদেও মধ্যে কোন নেটওয়ারকিং নেই। দলের চুড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কেও দলীয় সদস্য-সদস্যরা অবগত নয়। মূলত এ পদ্ধতি হলো অর্থনৈতিক শোষণের নব্য সংস্করণ। দলের কোন সদস্য ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার দায়-দায়িত্ব বহন করতে হয় সমিতি বা দলের সকল সদস্যদের। এ যেন কাঁটা দিয়েই কাঁটা তোলার শামিল। গ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দাতাদের কিছু আসে যায় না। উন্নয়নের নামে এই মোষণমূলক ব্যবস্থা এখন আর কারও কাছে অঞ্জাদ নয়। দরিদ্র দেশের গ্রাম বাংলায় গড়ে ওঠা সামাজিক দল বা সমিতি এবং কর্মরত আর্থিক ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড দেখলেই এর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। কোন বিকল্প নেই, রাষ্ঠ্রীয় সরকার এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি উন্নয়ন-নীতির সহযোগী বা সম্পুরক ভেবে নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুঁজিবাদী বেিশ্বও এই নতুন ফর্মুলা আজ বাস্তকায়িত হচ্ছে দরিদ্র বিশ্বেও অধিকাংশ দেশে।
পুঁজিবাদী বিশ্বেও সৃষ্টি করা এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরণের কর্মকান্ড চালাতে না দিলে নির্ভরশীল দরিদ্র দেশের ধনীদেশ থেকে  পাওয়া সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ হওয়ার হুমকি প্রদানের ইতিহাসও অবিদিত নয়। উপায় নেই, পরনির্ভরশলৈ জাতিগুলোর বাচার তাগিদেই আজ অর্তনীতির এই নীরব শোষণ মেনে নিতে হচ্ছে। তাই আজ অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয় ধর্ম, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এমনকি মান-ইজজত পর্যন্ত বির্সজন দিয়ে দাতাদেও হাতের নাচের পতুল হতো। সভ্যতার এই আধুনিক দাসরা নর্তকীর মতো বিশ্বমঞ্চে

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.