আমি মাতাল
আমি উন্মাদ, আমি মাতাল
আমি যা কিছু বলি
সবই বেতাল।
আমি সত্যিকে মিথ্যে বলি
মিথ্যেকে করি সত্যি
এভাবেই আমি বাস্তবে চলি।
আমি কখনো করি জঘন্য খারাপ কাজ
কখনো দিই চরম বাধা
আমার নেই কোন শরম লাজ।
আমার কোন নিয়ম নেই
সব কিছুতেই অনিয়ম
হঠাৎ রেগে যাই অন্যায় কিছু বললেই।
আমার নেই কোন ভদ্রতার লেশ
কখনো চলায় বলায় রাখি
শান্ত-শিষ্ট ভদ্র বেশ।
আমি কাউকে শ্রদ্ধা করিনে
করিনে স্নেহ, বাসিনে ভাল
তাই কারো কাছে কিছুতে হারিনে।
আমি কখনো শ্রদ্ধায় করি মাথা নত
আদর করে ডেকে নেই কাছে
প্রাণের চেয়েও ভালোবাসি শত।
আমি কখনও চলি দ্রুত, কখনও খুব ধীরে
কখনও ছুটে চলে যাই দূর পাহাড়ে
খোলা মাঠ আর ছোট্ট নদীর তীরে।
আমি কখনো শুনি পিয়ানোর সুর, ঢোলের বাদ্য,
বেহালা, একতারা আর রাখালের বাঁশি,
কখনো পড়ি বড় কবিদের ছন্দহীন গদ্য।
আমি কখনো গুমরে কাঁদি নেই বুক-ফাঁটা রোদন
আবার কখনো প্রাণভওে হাঁসি
পড়ি নজরুলের রিক্তের বেদন।
আমি বেড়িয়ে আসি ঝকঝকে জোছনায়
কখনো নেমে যাই কালো অন্ধকারে
বালুচর আর নদী মোহনায়।
আমি কখনো তৃষ্ণার্ত চাতক, গ্রীষ্মের বুক-ফাঁটা রোদে,
কখনো ডালে বসা ভেজা কাক
পৌষের কনকনে শীতে।
আমি কোন কিছুতেই বাধা মানিনে
মন যা চায় করি তাই
ভালো কিংবা মন্দ কিছু জানিনে।
আমি কখনো মসজিদে, মন্দিরে, প্যাগোডা আর গির্জায়
আবার কখনও যাত্রাগানে, পতিতালয়ে
মদ তাড়ি আর গাঁজার আড্ডায়।
আমি কখনো শুনি উগ্র আর বিরহ গীত
শুনি পল্লীগীতি ভাওয়াইয়া
জারি আর মরমি সঙ্গীত।
আমি দেখি পশ্চিমা ড্যান্স আর মণিপুরী
শুনি পুঁথি, গজল কাওয়ালি
বেহারার পাল্িক টানা গাওয়া শুকশারী।
শুনি সখিনার প্রলাপ, গণসংগীত আর পপ,
দেখি যাত্রা, নাটক, সিনেমা, গ্রাম্যমেলা
ফুটপাতে ওষুধ বেচা আর ফুটবল খেলা।
শুনি মেঘের গর্জন আর বজ্রপাতের শব্দ
সুনামী, ভুমিকম্প, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস
ধ্বংসের অভিশাপ যা লাখো প্রাণ করে স্তব্ধ।
দেখি মেঘমুক্ত আকাশ, কখনো মেঘে ভরা
ধরণী কুয়াশায় ঢাকা, নেই শিশির
কালো অন্ধকার, আকাশে নেই তারা।